শুক্রবারও ঝুলেই রইল কর্নাটক বিধানসভার আস্থা ভোট। বরং আরও জটিল হল সাংবিধানিক সঙ্কট। এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে কংগ্রেস-জেডিএস জোট। রাজ্যপাল দু’বার নির্দেশিকা পাঠালেও তা উপেক্ষা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী। তাঁদের যুক্তি, বিধানসভা তথা স্পিকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না রাজ্যপাল। সেই যুক্তিতেই শুক্রবারও আস্থা ভোটের মুখোমুখি হননি কুমারস্বামী। 

বৃহস্পতিবার দিন ভর তো বটেই রাতেও কর্নাটক বিধানসভাতেও চূড়ান্ত নাটক চলে। বিধানসভেই রাত কাটান বিজেপি বিধায়করা। সকালে বিধানসভা চত্বরেই মর্নি‌ং ওয়াক করতেও দেখা যায় তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অনাস্থার উপর আলোচনা শুরু হয়। মাঝে দুপুরের দিকে অধিবেশন মুলতুবিও করেন। কিন্তু দিনের শেষে আস্থা ভোট হয়নি। 

বৃহস্পতিবারই কর্নাটকের রাজ্যপাল বলেছিলেন, ওই দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই আস্থা ভোট সম্পূর্ণ করতে হবে। কিন্তু তা হয়নি। শুক্রবার রাজ্যপাল ফের কুমারস্বামীকে নির্দেশিকা পাঠান, ‘‘শুক্রবারের মধ্যে আস্থা ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করুন।’’ কিন্তু কুমারস্বামী গোড়া থেকেই বলে আসছেন, বিধানসভা বা স্পিকারের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না রাজ্যপাল। তাই তাঁর নির্দেশ না মেনে এখনও আস্থা ভোট হয়নি। এমনকি, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী রাজ্যপালের চিঠিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘‘দ্বিতীয় প্রেমপত্রে আঘাত পেয়েছি।’’ পাশাপাশি স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে তিনি মেনে নেবেন বলেও জানিয়েছেন।  

সন্ধ্যার দিকে কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানান, আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। মূলত দু’টি প্রশ্ন আমাদের। প্রথমত, দলের বিধায়কদের উপর হুইপ জারি করার অধিকার রয়েছে যে কোনও দলের, এই অধিকার কোনও আদালতই কেড়ে নিতে পারে না। দ্বিতীয়ত, বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীন কখন আস্থা ভোট করা হবে, তা নিয়ে রাজ্যপাল কখনও নির্দেশিকা বা সময়সীমা বেঁধে দিতে পারেন না। 

আরও পডু়ন: দ্রুত বেড়েছে স্কোর, বিজেপিতে বড় উত্থান হতে পারে ভারতী ঘোষের

আরও পড়ুন: বন্যায় মৃত্যু নয়, তিন বছরের অর্জুনকে নদীতে ছুড়ে খুন করেছেন মা! উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য

অন্য দিকে বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, আস্থাভোট নিয়ে টালবাহানা করছে কংগ্রেস ও জেডিএস জোট সরকার। গেরুয়া শিবিরের আরও অভিযোগ, আসলে বিদ্রোহী বিধায়কদের ঘরে ফেরানোর জন্য সময় কিনতে চাইছে সরকার পক্ষ।