জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার ফর্ম জমা দেওয়া চলছে অনলাইনে। এ দিকে গত ৫ অগস্ট থেকে ইন্টারনেট নেই জম্মু-কাশ্মীরে। শ্রীনগরের শাদাব আহমেদ ধরেই নিয়েছিলেন, এ বছরটা গেল। কাল ফর্ম জমা পড়ায় অবশ্য ফের হাসি ফুটেছে তাঁর মুখে। শাদাবের মতো জয়েন্ট-নেট-গেটের আরও বহু পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াচ্ছে শহরের বেশ কয়েকটি ইন্টারনেট ক্যাফে। পরীক্ষার্থীরা অফলাইনে ফর্ম ভরছেন। আর দিল্লি গিয়ে তা অনলাইনে জমা করে আসছেন ক্যাফে-কর্মীরা। ক্যাফের বাইরে তালা, তবু হজরতবাল এলাকার এক-একটা ক্যাফে রোজ অন্তত ৪০টা করে ফর্ম সংগ্রহ করে যাতায়াত করছে শ্রীনগর-দিল্লি।

প্রশাসন পাশে নেই। ৫০ দিনেরও বেশি চলতে থাকা অচলাবস্থায় ধুঁকছে জম্মু-কাশ্মীরের বড় অংশ। এখন তাই ‘সেল্ফ সার্ভিসেই’ আস্থা রাখছে উপত্যকা। শ্রীনগর হাইকোর্টে জমতে থাকা হেবিয়াস কর্পাস আর্জির দ্রুত শুনানির স্বার্থেও যেমন এগিয়ে এল বার অ্যাসোসিয়েশনই। আট আইনজীবীর একটি প্যানেল তৈরি করে বার জানিয়েছে, কেউ পিটিশন দায়ের করতে চাইলে এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এই আইনজীবীরাই আবেদনকারীদের হয়ে সওয়াল করবেন আদালতে।

অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল শওকত নক্সবন্দি আনন্দবাজারকে বললেন, ‘‘হাইকোর্টে মামলার পাহাড় জমেছে। এর একটা বড় অংশই ‘জন নিরাপত্তা আইনে’ আটক কিংবা গ্রেফতারি মামলায় হেবিয়াস কর্পাস আর্জি। সংখ্যাটা জানুয়ারি থেকে এরই মধ্যে সাড়ে পাঁচশো ছাড়িয়েছে।’’ অগস্টে একটি আর্জিরও শুনানি হয়নি। বারের তৈরি করা প্যানেলের হাত ধরে ফের শুনানি শুরু হবে বলে আশাবাদী উপত্যকা। ৫ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া ধরপাকড় পর্বে বারের সিনিয়র সদস্যদেরও অনেকে আটক। বসির আহমেদ, মীর মাজিদ, জিয়া-উর রহমান, নাসীম কাদরিদের মতো আট জুনিয়র সদস্যকে দিয়েই তাই মামলা লড়তে চাইছে বার।

পড়ুয়াদের স্বার্থে লড়াইয়ের মাঠ ছাড়তে নারাজ শ্রীনগরের ক্যাফে মালিকেরাও। হজরতবালের মহম্মদ ইউনিস বললেন, ‘‘ফর্ম পূরণের জন্য তথ্য নিয়ে আমাদের ছেলেরাই দিল্লি যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের ফোনে ওটিপি এলে তা ফোনেই জেনে নিয়ে দিল্লিতে অনলাইনে ফর্ম জমা হচ্ছে।’’ দিনে চল্লিশটা করে ফর্ম সংগ্রহ করলেও বহু পড়ুয়া লাইন থেকে ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানালেন তিনি। ইউনিসের দাবি, এখন প্রশাসনের তরফে যদি নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ব্রডব্যান্ড চালু করা হয়, তা হলেও অনেকটা সমাধান হয়। সম্প্রতি গেট-এর রেজিস্ট্রেশনের জন্য সরকারি তরফে বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেটাও যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ পরীক্ষার্থীদের।

এক পরীক্ষার্থীর কথায়, ‘‘মাত্র তিনটে কম্পিউটার দিয়ে কী হয়! রোজ ওরা বড় জোর ৫-৬টা ফর্ম জমা করছে। এ দিকে লাইন তো বেড়েই চলেছে।’’ তাঁর দাবি, নাম লিখিয়ে দ্বিতীয় বার সরকারি সেন্টারে গিয়ে তিনি দেখেন তাঁর সুযোগ আসছে ৭ অক্টোবর। কিন্তু ফর্ম জমা দেওয়ার মেয়াদ তো এ মাসেই ফুরোচ্ছে!

একই ভাবে বার অ্যাসোসিয়েশন প্যানেল তৈরি করে দিলেও, তাতে আখেরে লাভ হবে কি না, সন্দেহ রয়েছে অনেকের। সরকারি তথ্য বলছে, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খারিজের পর থেকে এখনও পর্যন্ত রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বিক্ষোভকারী মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ জনকে উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানার জেলে পাঠিয়েছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, এঁদের সঙ্গে পরিবার যাতে দেখা করতে পারে, সে ব্যাপারে সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ করেছেন জম্মু-কাশ্মীর জেল কর্তৃপক্ষ।