এ বার আমজনতাকে সাক্ষী রেখে প্রশাসনিক নির্দেশ দিতে শুরু করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টি (‘আপ’)-র নেতা অরবিন্দ কেজরীবাল। টুইটারে। দিল্লির মানুষকে বার্তা দিতে চাইলেন, তাঁর সরকার কী কী কাজ কী ভাবে করতে চাইছে। সেই কাজগুলি যদি অপূর্ণ থাকে, তা হলে তার দায়টা কার, তা বুঝে নেওয়ার দায়িত্বটা কেজরী তুলে দিলেন আমজনতার হাতেই। 

পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। বললেন, ‘‘এতে নৈরাজ্য দেখা দেবে।’’

শুক্রবার তাঁর একটি টুইটে কেজরী দিল্লি সরকারের খাদ্য দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেরি না করে গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করা হোক। ঘরে ঘরে গিয়ে সপ্তাহের রেশন পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি যে দিল্লি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, টুইটে সে কথাও জানিয়ে দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।

 

আরও একটি টুইটে কেজরী জানিয়েছেন, একটি সেতু নির্মাণের শেষ কিস্তির অর্থবরাদ্দের প্রস্তাবটিও দিল্লি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।

 

আরও পড়ুন- দিল্লিতে ফের সংঘাতের আবহ, ফাইল ফেরালেন আমলারা​

আরও পড়ুন- কেজরীই শেষ কথা, জানাল সুপ্রিম কোর্ট​

শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির উপ-রাজ্যপালের সঙ্গে ২৫ মিনিটের বৈঠক সেরে এসে কেজরী এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘‘ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশে কোনও কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ্যে অগ্রাহ্য করেছে। এটা একটি অনভিপ্রেত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। এতে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হবে।’’

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও দিল্লিতে মন্ত্রী-আমলা সংঘাত মেটেনি। রায়ের পরের দিনই দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রীর ফাইল সই করতে অস্বীকার করে ‘সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট’। ‘আইনি ত্রুটি’ রয়েছে বলে পত্রপাঠ ফাইল ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দাবি করা হয়, এই দফতরের দায়িত্বে এখনও উপরাজ্যপাল। আর তার পরই আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে ফের শীর্ষ আদালতে যাওয়ার হুমকি দেয় আপ।

বুধবারই সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, উপরাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান হলেও, দিল্লির প্রকৃত ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে। এই রায়ের পরই দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া আইএএস-দের বদলি সংক্রান্ত একটি ফাইল পাঠান। সেই ফাইলে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদনও ছিল। কিন্তু ‘সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট’ সেই ফাইলে একটি ‘নোট’ দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। তাতে বলা হয়, ফাইলে ‘আইনি ত্রুটি’ রয়েছে।