পুলিশের কাছে বাচ্চা মেয়েটির ছবি দেখেই ১১ বছরের ক্যারোলিনের সন্দেহ হয়। সোমবার তাদের সঙ্গেই তো খেলছিল সে! কাউকে না জানিয়ে ক্যারোলিন একাই তল্লাশি অভিযানে নামে। শেষ পর্যন্ত অপহরণকারিণীকে বোকা বানিয়ে, সাত বছরের মেয়েটিকে পিঠে চাপিয়ে, দৌড়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে ক্যারোলিন। খবর পেয়ে পুলিশ অপহরণকারিণীকে গ্রেফতার করে। সাহসিনী ক্যারোলিন এখন পাড়ার নয়নের মণি। 

আইজলের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, থুয়ালথু গ্রামে থেকে একটি মেয়েকে চুরি করে এক মহিলা পালিয়েছেন খবর পেয়ে আইজলের বিভিন্ন এলাকায় খবর দেওয়া হয়। জুয়াংতুই এলাকাতেও মঙ্গলবার পুলিশ নিয়মমাফিক বাচ্চা মেয়েটির ছবি সকলকে দেখাচ্ছিল। সেই ছবিই ক্যারোলিনের চোখে পড়ে। মনে পড়ে সোমবার এই নতুন মেয়েটাও তাদের সঙ্গে খেলছিল। কাউকে না জানিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ছোট্ট খেলার সাথীকে খুঁজতে শুরু করে ক্যারোলিন। শেষ পর্যন্ত রমেশ হেমরামের বাড়িতে মেয়েটিকে দেখতে পায়। সঙ্গে ছিল অপহরণকারী মহিলা জোনুনসাঙ্গি ফানাই। বাচ্চা ক্যারোলিনকে দেখে জোনুনের সন্দেহ হয়নি। জোনুনের সঙ্গে গল্প জমায় বাচ্চা ক্যারোলিন। 

জোনুন তাকে বলে, পাশের নির্মীয়মাণ বাড়ির মিস্ত্রিদের কাছে সে টাকা পায়। তারা এখনও আছে নাকি ক্যারোলিন যেন দেখে আসে। সে পাল্টা বলে, জোনুন গিয়ে টাকা আদায় করে আসুক। তত ক্ষণ সে বাচ্চারটির সঙ্গে খেলবে। ক্যারোলিনের কথায় বিশ্বাস করে জোনুন বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে অপহৃত মেয়েটিকে পিঠে চাপিয়ে দৌড় লাগায় ক্যারোলিন। কিন্তু দেখতে পেয়ে ধাওয়া করে জোনুন। কিন্তু ক্যারোলিনকে থামাতে পারেনি। 

বাড়ি ফিরে সব জানায় বাবা-মাকে। খবর যায় পুলিশে। পুলিশ জোনুনকে গ্রেফতার করে। বাচ্চাটিকেও উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। জোনুন জানায়, গত শনিবার তাঁর স্বামী ও বন্ধুরা মদ্যপান করছিল। ঝগড়া হওয়ায় স্বামী তাকে বেধড়ক মারধর করে। সেই রাগেই স্বামীর এক বন্ধুর বাচ্চাকে তুলে নিয়ে সে পালিয়ে যায়।