ত্রিপুরা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ...। ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে তালিকা। নীরব মোদী বা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে নীরব থাকলেও মূর্তি ভাঙা নিয়ে দ্রুত মুখ খুললেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদী রাজ্যগুলিকে বার্তা পাঠালেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হতে। আর বিজেপি সভাপতি অমিত দলকে বললেন মূর্তি ভাঙায় না জড়াতে। কিন্তু মূর্তি ভাঙার ঢল তাতে থামছে না। বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছে শাসক শিবিরের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েই। কারণ, মূর্তির বিরুদ্ধে তথাকথিত এই জনরোষের উৎস শাসক শিবিরই। এখন যা ব্যুমেরাং হচ্ছে। আঁচ পড়ছে তার ভাবমূর্তিতেও।

ত্রিপুরায় ভোটে জেতার পরেই বুলডোজার দিয়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙা দিয়ে শুরু। তার পরে গত দু’দিনে দেশ জুড়ে একের পর এক মূর্তি ভাঙায় আজ আসরে নামতে বাধ্য হন মোদী। সকালেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরেই দফায় দফায় রাজ্যগুলিকে বার্তা পাঠায় কেন্দ্র। বিরোধীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয় বলে গোরক্ষার নামে হিংসা রোখার দায় রাজ্যগুলির উপরে চাপিয়েছিলেন মোদী। মূর্তি-তাণ্ডবেও একই কাজ করলেন তিনি।

বিজেপি সভাপতি দলীয় নেতাদের এই ধরনের কাজে না জড়াত বললেও মূর্তি ভাঙা থামেনি। আজ বিকেলে উত্তরপ্রদেশের মেরঠে ভীমরাও অম্বেডকরের মূর্তি ভাঙা হয়। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এই ঘটনায় ফের মুখ পোড়ে শাসক দলের।

আরও পড়ুন: মূর্তি ভাঙচুর দক্ষিণেও, ছাড় বিজেপি নেতাকে

ত্রিপুরায় লেনিন-মূর্তি ভাঙার সমর্থনে কাল সরব হয়েছিল বিজেপির একাংশ। হুজুগে রাশ টানতে  মুখ খুলতে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। গত কাল তবু তামিলনাড়ুর বিজেপি নেতা এইচ রাজা ফেসবুকে লেখেন, পরের নিশানা রামস্বামী পেরিয়ার। সে রাতেই তামিলনাড়ুর ভেলোরে পেরিয়ার-মূর্তি ভাঙার দায়ে এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়। দ্রাবিড় রাজনীতিতে ঘা পড়ায় অস্বস্তি বাড়ে বিজেপির। সব রাজনৈতিক দল এক সুরে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়। সরব হন সদ্য রাজনীতিতে আসা কমল হাসনও। খবর আসে কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। মাখানো  হয়েছে কালি।

মূর্তি ভাঙার প্রবণতা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে দেখে প্রমাদ গোনে কেন্দ্র। বিষয়টি ওঠে সংসদের উভয় কক্ষে। দক্ষিণের ক্ষোভ সামাল দিতে তৎপর হন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু, অমিত শাহ। এইচ রাজার দাবি, পেরিয়ারের মূর্তি ভাঙার পিছনে তাঁর ভূমিকা নেই। অমিতের বক্তব্য, ‘‘তামিলনাড়ু ও ত্রিপুরার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছি। মূর্তি ভাঙায় দলের কেউ জড়িত থাকলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

প্রধানমন্ত্রীর দফতর টুইট করলেও মূর্তি-প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা নিতে রাজনাথকে নির্দেশ দেন। এর পরেই রাজ্যগুলিকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে কড়া হাতে এমন ঘটনা রোখার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বিকেলে রাজ্যগুলির উদ্দেশে দ্বিতীয় একটি বার্তা পাঠায় কেন্দ্র। সেই বার্তাতেও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে দায়বদ্ধ করার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।