বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে দলের সমালোচনা করায় কর্নাটকে কংগ্রেস নেতাকে শোকজ
কর্নাটকে একজন মুসলিম প্রার্থীকেই ভোটের টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস, তাই মুসলিমদেরও কংগ্রেসকে আঁকড়ে থাকা উচিত নয় বলে পরামর্শ দেন তিনি।
roshan baig

আর রোশন বেগ। —ফাইল চিত্র।

ভোটের ফল ঘোষণা হয়নি এখনও। তার আগেই অস্বস্তি বিরোধী শিবিরে। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক থেকে সরে গিয়েছেন কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিএস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামী। এ বার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন সে রাজ্যেরই এক কংগ্রেস নেতা। কর্নাটকের কংগ্রেস নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে ‘ফ্লপ শো’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি।

বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে সোমবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন সাতবারের কংগ্রেস বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আর রোশন বেগ। বিরোধী শিবিরের বাকি নেতারা যেখানে বুথফেরত সমীক্ষাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ, সেই সময় উল্টো সুর ধরা পড়ে তাঁর গলায়। বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে ভোটের ফলাফলে তেমন তফাত থাকবে না বলে দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে মুসলিম ভোটারদের সতর্ক করে বলেন, “মুসলিমরা কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্ক নয়। কোনওভাবেই তাঁদেরকেদলের নিশ্চিত ভোটার হিসাবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। পরিস্থিতি তেমন দাঁড়ালে, বিজেপিকেও সমর্থন করতে পারেন মুসলিমরা।”

কর্নাটকে একজন মুসলিম প্রার্থীকেই ভোটের টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস, তাই মুসলিমদেরও কংগ্রেসকে আঁকড়ে থাকা উচিত নয় বলে পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর কথায়, “যদি এনডিএ সরকারই ক্ষমতায় ফেরে, তাহলে মুসলিম ভাইদের কাছে আমার অনুরোধ, পরিস্থিতি বুঝে আপস করতে শিখুন।একটা মাত্র দলকে আঁকড়ে বসে থাকবেন না। আর কর্নাটকে তা করেই বা কী হয়েছে? মাত্র একজনকে টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস।”

আরও পড়ুন: মুখে লাল কাপড় বাঁধা, হাতে পিস্তল, এলোপাথাড়ি বোমাবাজি-গুলি কাঁকিনাড়ায়​

পরিস্থিতি বুঝে ভবিষ্যতে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে যেতেও তাঁর আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন আর রোশন বেগ। তিনি বলেন, “প্রয়োজন পড়লে তাই করব। আমরা মুসলিমরা সম্মান খুইয়ে কোনও দলে থাকতে পারব না। বরং যাঁরা সম্মান এবং স্নেহ করবেন  তাঁদের সঙ্গে থাকব।”

কর্নাটকে মুসলিমদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি দীনেশ গুন্ডু রাও এবং কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা সিদ্দারামাইয়াকেই সরাসরি দায়ী করেন রোশন। তিনি বলেন, “দীনেশ গুন্ডুর জন্যই আমাদের নির্বাচনী প্রচার ফ্লপ হয়েছে। কংগ্রেস পরিষদীয় দলের যে নেতারা এতদিন আকাশে উড়ছিলেন, বাস্তবটা মেনে নেওয়া উচিত তাঁদের।” ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে গুন্ডু রাও এবং সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: গরমিল থাকলেই সমস্ত ভিভিপ্যাটের সঙ্গে মেলাতে হবে ইভিএম, নির্বাচন কমিশনে দাবি বিরোধীদের​

বুথফেরত সমীক্ষায় তিনি একটুও অবাক হননি বলেও দাবি করেন রোশন বেগ। তাঁর দাবি, ফলাফল যে এমন হবে তা ঢের আগেই আঁচ পেয়েছিলেন। কারণ, সময় থাকতে নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব দেয়নি তাঁর দল। বুথফেরত সমীক্ষা সত্য প্রমাণিত হলে কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোটের উপর তার প্রভাব পড়বে বলে মেনেছিলেন জেডিএস মুখপাত্র তনভির আহমেদ এবং কংগ্রেস নেতা ব্রিজেশ কালাপ্পাও। তবে রোশন বেগের প্রকাশ্য সমালোচনা ভাল ভাবে নেয়নি কংগ্রেস। বরং তাঁকে শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে। জবাব দিতে বলা হয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে। অন্য দিকে, রোশন বেগকে সুবিধাবাদী বলে আক্রমণ করেছেন কর্নাটক কংগ্রেসেরই আর এক নেতা রিজওয়ান আরশাদ। ইস্তফা দিয়ে তাঁকে বিজেপিতে চলে যেতে বলেছেন তিনি।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত