ঋণের ফাঁদে পড়ে আত্মঘাতী হয়েছিলেন তাঁর স্বামী। তার পর থেকে সামাজিক ক্ষেত্রে তীব্র বঞ্চনার শিকার তিনি। দেশবাসীর সামনে কৃষকদের দুর্দশার ‘প্রকৃত সত্য’ তুলে ধরতে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এলাকার এক স্বামীহারা কৃষক রমণী বৈশালী ইয়েড়ে। মহারাষ্ট্রের যবতমল-ওয়াসিম লোকসভা আসন থেকে প্রহার জনশক্তি পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৮ বছর বয়সি বৈশালী। তিনি বলেছেন, ‘‘কৃষকদের আসল অবস্থার কথা কেউ জানেন না। কোনও কৃষক আত্মহত্যা করলে অনেকেই আসেন, সান্ত্বনা দেন, চলে যান। কিন্তু আত্মঘাতী কৃষকদের পরিবারগুলি এবং স্বামীহারা স্ত্রীদের কী অবস্থা হয় কেউ জানে না।’’

যবতমলে কৃষকদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রাজ্যের ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে ১৪৮৯ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। নিজের জেলার ওই করুণ ছবিটাই তুলে ধরতে চেয়েছেন বৈশালী। তাঁর কথায়, ‘‘লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে কৃষকদের সমস্যার কথা বলছি। আত্মঘাতী কৃষকদের পরিবারগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, সে সম্পর্কে জানাচ্ছি।’’ ওই আসনে বৈশালীর বিরুদ্ধে প্রার্থী চার বারের সাংসদ শিবসেনার প্রার্থী ভাবনা গাওয়ালি এবং কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী প্রদেশ সভাপতি মানিকরাও ঠাকরে। ওই কৃষক রমণীর কথায়, ‘‘প্রচারে বলছি, বড় লোকেরা গরিবদের সমস্যাগুলির কথা তেমন ভাবে মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করেন না। এটা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা।’’ 

১৮ বছর বয়সে সুধাকরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বৈশালীর। তার দু’বছরে মধ্যে ঋণের জালে জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন সুধাকর। বৈশালী শুনিয়েছেন স্বামীর অসহায়তার কথা। বলেছেন, ‘‘ও তুলো এবং ডালের চাষ করত। ফলন ভাল না হওয়ায় মহাজনের ঋণ শোধ করতে পারেনি। কিন্তু ব্যাঙ্ক ঋণ দেয়নি।’’