ব্যবসায়ীদের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা মোদীর
ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে কংগ্রেসকেও এ দিন বিঁধেছেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, ‘চোর’ বলে অপমান করা ছাড়া কংগ্রেস ব্যবসায়ীদের জন্য আর কিছুই করেনি।
modi

ব্যবসায়ী মহলের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে। পিটিআই

জিএসটি ও নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে গত আড়াই বছরে বারেবারেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছে ব্যবসায়ী মহল। জোড়া ক্ষত এখনও শুকোয়নি বলেই অভিযোগ তাঁদের অনেকের। লোকসভা ভোটে তার আঁচ পড়ার আশঙ্কায় ভোট পর্বের মধ্যেই শুক্রবার ব্যবসায়ীদের মুখোমুখি হয়ে তাঁদের মন জয়ে কিছু ‘ভুল’ হওয়ার কথা মেনে নিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে দিলেন ঢালাও প্রতিশ্রুতি। দাবি করলেন, পাঁচ বছরে ব্যবসায়ীদের ভালই করতে চেয়েছেন। যা দেখে বিরোধী কংগ্রেসের দাবি, দুূ’দফা ভোটের পরেই মোদী বুঝেছেন, পায়ের তলার মাটি ক্রমশ সরছে। তাই বিজেপির এক সময়ের ভোটব্যাঙ্ক ব্যবসায়ীদের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার এই মরিয়া চেষ্টা।

ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে কংগ্রেসকেও এ দিন বিঁধেছেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, ‘চোর’ বলে অপমান করা ছাড়া কংগ্রেস ব্যবসায়ীদের জন্য আর কিছুই করেনি। তাঁর কথায়, ‘‘গোটা দেশ দেখেছে, ভাল ও খারাপ, সব সময়েই আমরা কী ভাবে আপনাদের পাশে থেকেছি।’’

নোট বাতিল ও জিএসটি-র ধাক্কায় ব্যবসা হারিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ছিলেন ব্যবসায়ীরা। কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স-সহ দেশের নানা প্রান্তে ব্যবসায়ীদের ছোট-বড় সংগঠন এ নিয়ে মুখ খুলেছিল। মোদীর রাজ্যের সুরাতেই ধর্মঘট ডাকেন বস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে আঁচ করেই এ দিন দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মোদী বৈঠকে বসেছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের অভিমত। 

ব্যবসায়ীরা তাঁদের জীবনে আঁধার নামার অভিযোগ তুললেও মোদীর দাবি, গত পাঁচ বছরে তিনি জীবন বরং সহজই করতে চেয়েছেন। দেড় হাজার প্রাচীন আইন তুলে দিয়ে সহজে ব্যবসার পথ গড়েছেন। ইনস্পেক্টর-রাজ প্রায় বন্ধ। আয়কর দফতরের হস্তক্ষেপও আর নেই। ১৭টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর মিশিয়ে জিএসটি চালু করায় স্বচ্ছতা এসেছে। দ্বিগুণ হয়েছে নথিভুক্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা। আর তাঁর সরকারের নানা সাফল্য বর্ণনা করে নিজেকে ‘মালিক’ নন, ‘সেবক’ আখ্যা দিয়েছেন নিজেই।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

তা হলে কি সবটাই ভাল? কৌশলী মোদী বলেছেন, ‘‘কোনও ভুল হয়নি, তা আমি বলছি না। কিন্তু কোনও ত্রুটি থাকলে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ মেনে দ্রুত তার সমাধান করা হয়েছে।’’

কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা অবশ্য বলেছেন, ‘‘জিএসটি ও নোট বাতিল ব্যবসায়ীদের কোমর ভেঙে দিয়েছিল। দু’পর্বের ভোটের পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই বৈঠকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, বিজেপির পালে হাওয়া নেই। আমরাই বলেছি, ক্ষমতায় এলে জিএসটি-র সরলীকরণ হবে। নোটবন্দির পিছনে অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’’

মোদী দাবি করেন, ব্যবসায়ীরাই দেশের মেরুদণ্ড। দেশের অর্থনীতির দ্বিগুণ হওয়ার জন্য তাঁদের স্বীকৃতি দিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোদীর প্রতিশ্রুতি, ২৩ মে তাঁরা ক্ষমতায় ফিরছেন। তার পরে ছোট দোকানিদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করতে বিশেষ পর্ষদ তৈরি হবে। বন্ধক ছাড়াই ব্যবসায়ীরা ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। যদিও আগে ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য এমন বন্ধকহীন ঋণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সহজে তা মেলে না বলেই শিল্পের অভিযোগ।

একই সঙ্গে কংগ্রেসকে বিঁধেছেন মোদী। তাঁর দাবি, মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ভুক্ত হওয়ায় গর্ববোধ করতেন। কিন্তু দেশের অর্থনীতিতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকার কথা কখনও স্বীকার করে না কংগ্রেস। তাঁর কথায়, ‘‘তাঁদের চোর বলে। কংগ্রেসের নামদারেরা নিজেদের ছাড়া আর কারও কথা জানেন না। কংগ্রেস রাজত্বে জিনিসের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীদের দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু তা আসলে তাদের দলের লোকেরই কালোবাজারির ফল।’’

কংগ্রেসের মুখপাত্র পাল্টা বলেন, ‘‘চৌকিদারই যে চোর, তা নিয়ে দেশবাসীর মনে কোনও সন্দেহ নেই।’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত