‘আশীর্বাদ’ নিয়ে চুপ, কমিশনকে ধন্যবাদ মোদীর
প্রধানমন্ত্রীর টুইট করা ভিডিয়োয় অবশ্য কেদারনাথ চত্বরের মাইকে বেজে চলা ভজন ছাপিয়ে শোনা গেল ‘মো-দী মো-দী’ স্লোগান। দেখা গেল, কার্পেটে দাঁড়িয়ে ঘুরে-ঘুরে চতুর্দিকে প্রণাম করছেন মোদী। ফিরে এসেছেন চেনা পোশাক— আকাশি জ্যাকেট ও চুড়িদারে।
Modi

প্রণাম: বদ্রীনাথ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার। পিটিআই

ধ্যানভঙ্গ করে আবার সেই ‘বহুচর্চিত’ লাল কার্পেটে দাঁড়ালেন নরেন্দ্র মোদী। কেদারনাথ থেকে বদ্রীনাথে রওনা হওয়ার আগে প্রণাম করতে এলেন মন্দিরে। 

ভিডিয়োটা মোদীই টুইট করেছেন আজ। নিজেই বলেছেন, কাল ধ্যানে বসা ইস্তক বহির্জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিলেন। দু’দিন বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদও দিয়েছেন  নির্বাচন কমিশনকে। পুলওয়ামা হামলার সময়ে তাঁর শুটিং করা নিয়ে তুমুল বিতর্কের পরেও দেশের প্রধানমন্ত্রী কী ভাবে নিজেকে দিনভর বিচ্ছিন্ন করে রাখলেন, সেই প্রশ্ন উঠল স্বাভাবিক ভাবেই। 

প্রধানমন্ত্রীর টুইট করা ভিডিয়োয় অবশ্য কেদারনাথ চত্বরের মাইকে বেজে চলা ভজন ছাপিয়ে শোনা গেল ‘মো-দী মো-দী’ স্লোগান। দেখা গেল, কার্পেটে দাঁড়িয়ে ঘুরে-ঘুরে চতুর্দিকে প্রণাম করছেন মোদী। ফিরে এসেছেন চেনা পোশাক— আকাশি জ্যাকেট ও চুড়িদারে। জ্যাকেটের ওপরে একটা খয়েরি ওভারকোট। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এক সংবাদ সংস্থার দাবি, গত কালের পোশাকটা সচেতন ভাবেই বেছেছিলেন মোদী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে বঙ্গের ভোটারদের আবেগ উস্কে দিতেই নাকি জোব্বা আর গেরুয়া কোমরবন্ধ পরেছিলেন তিনি। আর হিমাচলের ভোটারদের বার্তা দিতে হিমাচলি টুপি। সেই বেশেই কেদারনাথে পুজো, তীর্থক্ষেত্র সংস্কারের নীল নকশা পর্যবেক্ষণ, মন্দির প্রদক্ষিণ, লাঠি হাতে চড়াই ভেঙে পাথুরে খুপরিতে ধ্যান। 

কত ক্ষণ ধ্যান করলেন মোদী? কারও দাবি, ১৫ ঘণ্টা, কারও দাবি ২০। মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মোদী আজ বলেছেন, ‘‘ঈশ্বরের কাছে কিছু চাইনি। তিনি আমাদের দাবির যোগ্য নয়, দানের যোগ্য করেছেন।’’ কেদারনাথের তীর্থ পুরোহিত প্রবীণচন্দ তিওয়ারি কাল সাংবাদিকদের একাংশকে বলেন, মোদীকে আশীর্বাদ করেছেন তিনি— যাতে অন্তত তিন বার প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন (এক মার্কিন সংবাদপত্রের দাবি, মোদীকে তিনি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আশীর্বাদও করেছেন বলে জানিয়েছেন পুরোহিত)। ‘হ্যাটট্রিক’ নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করতেই এক গাল হাসলেন মোদী। বললেন, ‘‘জীবনের কিছু কিছু কথা নিজের কাছেই রাখতে চাই।’’ তবে এটা বললেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে উত্তরাখণ্ডে ‘অনুকূল’ (বিজেপি) সরকার এসেছে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কেদারনাথের সংস্কার চলছে মাস্টার প্ল্যানের ভিত্তিতে। মোদীর কথায়, ‘‘এই মাটির সঙ্গে হৃদয়ের যোগ। এখানে এলে সংস্কারের কাজটাও পর্যালোচনা করে যাই।’’ 

এ সবই ছড়াল চ্যানেলে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। আজ শেষ দফার ভোটের দিন হওয়া সত্ত্বেও মোদীর ‘ব্যক্তিগত’ সফরের (বকলমে হিন্দুত্ব-প্রচারের) ছবি ছড়াতে দেওয়া হচ্ছে কেন, একযোগে সেই প্রশ্ন তুললেন বিরোধীরা। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর টুইট, ‘‘এ বার কেদারনাথের নাটক। মিস্টার মোদী ও তাঁর গ্যাংয়ের সামনে নির্বাচন কমিশনের আত্মসমর্পণ অবধারিতই ছিল।’’ ভোটের প্রচার শেষের পরেও মোদীর কেদারনাথ যাত্রার সম্প্রচার, মাস্টার প্ল্যান নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা— এ সবেতেই আচরণবধি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল। চিঠি দিয়েছেন টিডিপি নেতা এন চন্দ্রবাবু নায়ডুও। সেই সঙ্গে গত শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে মোদী কী ভাবে মুম্বইয়ের সাট্টা বাজারের মতো বেআইনি কারবারের উদাহরণ টানতে পারলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে মায়াবতী-অখিলেশ যাদব নীরব। অনেকের মতে, উত্তরপ্রদেশে এসপি-বিএসপি জোটের জাতিভিত্তিক রাজনীতিকে হিন্দুত্বের চাদরে ঢাকতে চাইছিলেন মোদী। সেই ফাঁদে পা বাড়াননি ‘বুয়া-ভাতিজা’। 

বদ্রীনাথে সেনার হেলিপ্যাডে নামে প্রধানমন্ত্রীর চপার। সেখান থেকে গাড়িতে মন্দির। মূল গর্ভগৃহে ২০ মিনিট ধরে পুজো দেন মোদী। বেরিয়ে আসেন গলায় মালা পরে। বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির প্রধান মোহনপ্রসাদ থাপলিয়াল জানান, মন্দিরের ভিতরে ও বাইরের চত্বরে হাঁটতে হাঁটতে অপেক্ষমাণ পুণ্যার্থী ও স্থানীদের সঙ্গে হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী। পুরোহিতদের তরফে মোদীকে দেওয়া হয় বার্চ পাতা দিয়ে তৈরি শুভেচ্ছা-কার্ড। মানা গ্রামের বাসিন্দারা দেন একটি শাল। একই সঙ্গে মন্দির কমিটি স্মারকলিপিও দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। মন্দির চত্বরের পরিধি বাড়ানো এবং টেলি-যোগাযোগ উন্নত করার আর্জি জানানো হয়েছে তাতে। আর দিল্লি রওনা হওয়ার আগে মন্দির কমিটিকে মোদী বলেছেন, পুণ্যার্থীদের আরও উন্নত পরিষেবা দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিক তারা। 

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত