টিকিটের পিছনে কেন মোদী, বিপাকে রেল 
ট্রেনের টিকিটের পিছনে দিব্যি হাসছেন নরেন্দ্র মোদী।
IR

নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেও দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিটের পিছনে দিব্যি হাসছেন নরেন্দ্র মোদী। জ্বলজ্বল করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের নানান সাফল্য। এতে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে গত কাল নির্বাচন কমিশনের কাছে একপ্রস্ত অভিযোগ জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিষয়টি নিয়ে সুর চড়ানোর লক্ষ্যে কমিশন এ নিয়ে কী পদক্ষেপ করেছে, তা জানতে ফের সোমবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দল।

তৃণমূলের অভিযোগ, প্রায় দশ দিন আগে ভোট ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও, এখনও রেলের কাউন্টার থেকে কাটা দূরপাল্লার টিকিটের পিছনে মোদী সরকারের গুণকীর্তন করে বিভিন্ন প্রকল্পের সাফল্যের কাহিনি ছেপে বেরোচ্ছে। রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবিও। ভোট ঘোষণার পরে এ ভাবে কার্যত নিখরচায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে প্রচারে শাসক শিবির নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছে— ওই যুক্তিতে গত কাল কমিশনের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের নেতারা। অভিযোগ শুনে টিকিটের প্রমাণ দেখতে চান কমিশন কর্তারা। তৃণমূল টিকিটের প্রমাণ দেখালে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় কমিশন। আশ্বাস দেওয়া হয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখবে কমিশন। 

কিন্তু তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ফি দিন প্রায় দেড় কোটি যাত্রী দূরপাল্লার ট্রেনে সফর করেন। দলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের কথায়, ‘‘তাঁদের মধ্যে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ যাত্রীও যদি কাউন্টার থেকে টিকিট কাটেন, তা হলেও প্রতি দিন ৭৫ লক্ষ মানুষের কাছে বিনা খরচে নিজের ও দলের প্রচার পৌঁছে দিতে পারছেন মোদী। ওই কৌশলে গত দশ দিনে অন্তত সাত কোটি মানুষের কাছে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

তৃণমূলের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে যত দেরিতে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, তত বেশি রেলযাত্রীর কাছে বিনা খরচে শাসক দলের প্রচার পৌঁছে যাবে। কমিশন গত কাল ইঙ্গিত দিয়েছিল, বিষয়টি নিয়ে রেলের বক্তব্য জানার জন্য নোটিস পাঠানো হবে। কিন্তু আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই নোটিস রেল মন্ত্রকের কাছে আসেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়াতে আগামী সোমবারই ফের কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। 

তৃণমূলের তোলা এই অভিযোগে ঘোরতর সমস্যায় রেল মন্ত্রক। রেল সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনও ওঠেনি। ফলে কী করা য়ায়, তার দিশা পাচ্ছেন না রেল কর্তারা। মন্ত্রক জানিয়েছে— টিকিটের পিছনে কী বিজ্ঞাপন যাবে, তা ঠিক করার দায়িত্ব বেসরকারি বিজ্ঞাপন সংস্থার হাতে। রেল মন্ত্রক ওই সংস্থাকে নিয়োগ করলেও, টিকিটে বেসরকারি না সরকারি, কাদের বিজ্ঞাপন যাবে তা ঠিক করে সেই সংস্থাই। ফলে সরাসরি এতে রেলের কোনও হাত নেই বলে কর্তারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও, রেলেরই একাংশের বক্তব্য, এক জন যাত্রী টিকিট কাটছেন ভারতীয় রেলের কাউন্টার থেকে। ফলে সেই টিকিটে কী ছাপা হচ্ছে, তার দায় কোনও ভাবেই এড়াতে পারে না রেল। 

এই পরিস্থিতিতে কমিশন চিঠি দিলে নিজেদের ব্যাখ্যা হিসেবে রেল যে যুক্তি তুলে ধরতে চাইছে, তা হল— টিকিটের কাগজ বহু আগেই ছেপে রাখা হয়। পরে তা পাঠিয়ে দেওয়া রেলের টিকিট বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে। ফলে সরকারের বিজ্ঞাপন দেওয়া টিকিট যে আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন ব্যবহার হবে, সে সম্বন্ধে কোনও ধারণাই ছিল না রেলের। রাতের খবর, রেলের পক্ষে ১৭টি জোনকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরকারি প্রচার-সহ সব টিকিট যেন তারা বাতিল করে। কর্তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ না পেলেও টিকিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত