জগনের মধ্যে বাবাকে খুঁজছে রায়লসীমা
সন্ধ্যায় শহরের মুসলিম মহল্লা আলমাস গেটের মোড়ে যেন উৎসবের আয়োজন। স্লোগান উঠছে, ‘জয় জগন, জয় জগন!’
YS Jaganmohan Reddy

জগন্মোহন রেড্ডি

রাভালি জগন, কাভালি জগন...। 

জিপের মাথায় লাগানো মাইক থেকে বেজে চলেছে গানটা। তেলুগুতে যার অর্থ— জগনকে চাই, জগন আসবেই!

সন্ধ্যায় শহরের মুসলিম মহল্লা আলমাস গেটের মোড়ে যেন উৎসবের আয়োজন। দাঁড়ানোর জায়গা নেই। যুবকদের ঠাসা ভিড়। পথের একটা দিকের দখল নিয়ে মেয়েরা অধীর অপেক্ষায়। স্লোগান উঠছে, ‘জয় জগন, জয় জগন!’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ওয়াইএসআর কংগ্রেসের নেতা জগন্মোহন রেড্ডির এখানে আসার কথা ছিল গত কাল। আসতে পারেননি। ভাই ওয়াই এস অবিনাশ রেড্ডিকে পাঠিয়েছেন আজ। তাতেও জনতার উৎসাহে এতটুকু ভাটা পড়েনি। অবিনাশ এখানকার লোকসভার প্রার্থী। তিনি পৌঁছতেই শুরু হয়ে গেল পুষ্পবৃষ্টি। প্রায় প্রতিটি কথাতেই হাততালি আর জগনের নামে জয়ধ্বনি। উত্তেজনায় যেন ফুটছে গোটা এলাকা। প্রয়াত রাজশেখর রেড্ডির নিজের ঘাঁটি কাডাপা আজও বুঝিয়ে দিচ্ছে তাঁর পরিবারের জনপ্রিয়তা। এই কাডাপা থেকেই চার বার লোকসভা ভোটে জিতেছিলেন রাজশেখর। এই জেলারই পুলিভেনদুলা থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন পাঁচ বার। অন্ধ্রের প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রীকে কাডাপা ফেরায়নি কখনও। ২০০৯-এ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান রাজশেখর। সেই বছরেই কাডাপা থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রথম বার লোকসভায় যান জগন। রাজশেখরের নিহত হওয়ার খবর শোনার পরে অন্ধ্রে মৃত্যু হয়েছিল ১২২ জনের। এঁদের অনেকেই আত্মহত্যা করেছিলেন। বাবার মৃত্যুর ছ’মাস পরে সেই পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে পদযাত্রা করেছিলেন ছেলে। আপত্তি তোলে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। যাত্রা থামাননি জগন। তার পরেই ইস্তফা। নতুন দল, ওয়াইএসআর কংগ্রেস। আর ২০১১-র উপনির্বাচনে এই কাডাপা থেকেই রেকর্ড ভোটে জেতেন জগন। এ বারও এই জেলায় বাবার পুরনো বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছে ছেলে। এ বার কি তাঁদের জেতানো সেই সাংসদ, রাজশেখর রেড্ডির ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে পারবে তাঁর নিজের জেলা? জগনের ভাই অবিনাশের গলায় দাদার মতোই আত্মবিশ্বাস। বললেন, ‘‘লিখে নিন, ১৭৫টা আসনের মধ্যে ১৩৫টাই আমরা পাচ্ছি। লোকসভায় ২৫টার মধ্যে ২২টা। এ রাজ্যে বদল আসছেই। কারণ, চন্দ্রবাবু নায়ডু কথা রাখেননি।’’ সেই দাবিকেই আরও জোরালো করে তুলে ধরলেন কাডাপার মেয়র কে সুরেশবাবু। তিনি এই জেলায় জগনের দলের সভাপতিও। বললেন, ‘‘রাজ্যের ১৩টা জেলায় পদযাত্রা করেছিলেন  জগন। জায়গায় জায়গায় মানুষ তাঁর কাছে এসে ক্ষোভ জানিয়ে বলেছে, চন্দ্রবাবুকে চাই না। আপনি অন্ধ্রপ্রদেশে আপনার বাবার শাসন ফিরিয়ে আনুন।’’ তাঁর দাবি, মানুষ পরিবর্তন চাইছেন বলেই এত ভিড় জগনের প্রতিটি সভায়। মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে এমন ক্ষোভের কথা শোনা যাচ্ছে রায়লসীমার বিভিন্ন এলাকা চিত্তোর, পিলের, কাডাপাতে। যেমন তিরুপতির এস পি আর্টস কলেজের ছাত্র, পিলেরের বাসিন্দা অর্জুন নায়েক। বাবা ছোট চাষি। চার জনের সংসারে অভাব কাটে না। কলেজে পড়ার সঙ্গে তাই অটো চালায় অর্জুন। বললেন, ‘‘চন্দ্রবাবু প্রতিটি পরিবারে এক জনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। 

কিছুই হয়নি। চাষের কাজেও সরকারের সাহায্য পাইনি আমরা।’’ কলেজ ছাত্রটির মতে, রায়লসীমায় এ বার জগনের পাল্লা ভারী। কারণ, তাঁর মধ্যে রাজশেখর রেড্ডিকেই খুঁজছে মানুষ।

তেলুগু দেশম বলছে, সরকার চালাতে গেলে মানুষের একটুআধটু ক্ষোভ থাকবেই। তবে মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রী যে সব কাজ করেছেন, ভোটে তার ফল মিলবে। কাপাডার কোঅপারেটিভ কলোনিতে তেলুগু দেশমের দফতরে নেতা চন্দ্রশেখর বোমিশেট্টি বললেন, ‘‘আসলে চন্দ্রবাবুকে হটাতে একজোট হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, জগন আর কেসিআর। সে জন্যই এত অপপ্রচার। মানুষ ঠিক জানে রাজ্য ভাগের পরে কতটা সমস্যা অন্ধ্রপ্রদেশের। গড়ে তোলা হয়নি অমরাবতীকেও। এই সময়ে চাই যোগ্য নেতৃত্ব। সেটা চন্দ্রবাবু ছাড়া আর কে দিতে পারবে?’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত