বিক্ষুব্ধ রাজভরকে তাড়ালেন আদিত্যনাথ
যোগী মন্ত্রিসভায় অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন রাজভর। লোকসভা নির্বাচনের আগে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
adityanath

বুথফেরত সমীক্ষায় জয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর মন্ত্রিসভা থেকে শরিক দলের নেতা ওমপ্রকাশ রাজভরকে বরখাস্ত করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) প্রধান রাজভর অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, ২০ দিন আগে কেন তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হল না! শুধু রাজভর নয়, তাঁর দলের একাধিক সদস্যকেও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে যোগী সরকার।

যোগী মন্ত্রিসভায় অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন রাজভর। লোকসভা নির্বাচনের আগে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় থেকেই বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। আজ তাঁকে বরখাস্ত করার পর রাজভর বলেন, ‘‘ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে মুখ্যমন্ত্রী দেরি করলেন। দিন কুড়ি আগে এই সিদ্ধান্ত নিলে আরও ভাল হত।’’ তাঁকে বরখাস্ত করার পর বিজেপির প্রতি অসন্তোষ গোপন করেননি রাজভর। তিনি বলেন, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে আমি একটি মাত্র আসন চেয়েছিলাম। আমাদেরও একটা দল রয়েছে। আমরা যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করি, তা হলে কর্মী এবং মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে!’’

এসবিএসপি-প্রধান দাবি করেছেন, গত এপ্রিলে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু এত দিন তা প্রকাশ্যে আসেনি। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী দীনেশ শর্মা। তিনি বলেন, ‘‘উনি যদি পদত্যাগ করেছিলেন, তা হলে ইস্তফা পত্র রাজ্যপালের কাছে পাঠাননি কেন!’’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটপর্ব চলাকালীন রাজভরের পদত্যাগ গৃহীত হলে, অস্বস্তিতে পড়ত বিজেপি। এনডিএ-তে ভাঙন ধরছে বলে প্রচারের সুযোগ পেতেন বিরোধীরা। তাই ভোট-পর্ব শেষ হতে এবং বুথ ফেরত সমীক্ষায় ইতিবাচক ফলের ইঙ্গিত মিলতেই রাজভরকে বরখাস্ত করলেন যোগী।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এ বার কি তিনি এসপি-বিএসপি-আরএলডি’র মহাজোটে? জবাবে রাজভর জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে পরে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বক্তব্য নিয়ে মানুষের কাছে যাব। পিছিয়ে পড়া মানুষদের তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করব।’’ রাজভরের অভিযোগ, সামাজিক ন্যায় কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার মতো সময় নেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাঁর আরও অভিযোগ, গরিব পরিবারের সন্তানদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলে তিনি আদিত্যনাথের বিরাগভাজন হয়েছেন।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত