লিকার ব্যারন বিজয় মাল্যকে ভারতে ফেরানো যাবে কি না জানা নেই। তবে মাল্যর প্রত্যার্পণ মামলায় লন্ডনের আদালত যে কথা বলেছে, তাতে কিন্তু মুখ পুড়েছে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলোর।

লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার আদালতে মাল্যকে প্রত্যার্পণের মামলাটি চলছে। মাল্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তিনি পালিয়ে গিয়েছেন। শনিবার শুনানিতে ওয়েস্টমিনস্টার আদালতে বিচারপতি এমা আরবাথনট কিন্তু এই ঘটনার ‘অন্য দিক’ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মাল্যকে ঋণ দেওযার সময় ব্যাঙ্কগুলো কোনও রকমের নিয়ম মানেনি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিয়মাবলী উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছিল।”

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ওয়েস্টমিনস্টার আদালতের এই বক্তব্যের ফলে কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। ভারতীয় ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের একাংশকে নিয়ে লন্ডনের আদালত যেমন প্রশ্ন তুলেছে, পাশাপাশি মাল্যকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা নিয়ে ভারতের কাছ থেকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মানুষ পাচারের দায়ে দোষী, জেল হল দালের মেহেন্দির

ভারতের তরফে মামলাটি লড়ছে লন্ডনের বিখ্যাত আইনি সংস্থা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস। আদালতে মাল্যর তরফ থেকে তাঁর আইনজীবী  বলেন, ‘‘মাল্যর বিরুদ্ধে ভারতে যে তদন্ত চালালো হয়েছে, তাতে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। তদন্তের রিপোর্টে সাক্ষীদের বয়ানের বদলে তাঁদের বক্তব্য নিয়ে যেন বিচার বিশ্নেষণ করা হয়েছে।’’ অন্যদিকে ভারতের দাবি, ঋণখেলাপি মামলায় অভিযুক্ত বিজয় মাল্যকে ভারতে ফেরানো হোক। ভারতের আদালতে তিনি সঠিক বিচার পাবেন।

মনে করা হচ্ছে, আগামী মে মাসেই মাল্যর প্রত্যার্পণ মামলায় চূড়ান্ত রায ঘোষণা করতে পারে ওয়েস্টমিনস্টার আদালত। যদি ভারতের সেই মামলায় জয় হয়, তাহলেও মাল্যর প্রত্যার্পনের নির্দেশে সই করতে দুই মাস পর্যন্ত সময় নিতে পারে ব্রিটিশ প্রশাসন। যদিও রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যেতে পারে যে কোনও পক্ষ।