‘গোরক্ষকদের’ গুলিতে জম্মু-কাশ্মীরের ভদেরবায় এক ব্যক্তির খুনের অভিযোগে অশান্তি ছড়াল জম্মুতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্ফু জারি হয়েছে এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে ওই খুনের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও সাত জনকে। তবে মূল অভিযুক্ত পলাতক। পুলিশ এখনও খুনের কারণ স্পষ্ট না করলেও নিহত নইম আহমেদ শাহের পরিবারের অভিযোগ, খুনের পিছনে রয়েছে ‘গোরক্ষকদের’ হাত। ধৃতদের দাবি, বুধবার গভীর রাতে নইম ও আরও দু’জনকে সন্দেহজনক ভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখে গুলি করে তারা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিহতের পরিবারের সদস্যেরা ভদেরবা থানায় চড়াও হয়। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের রুখতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।

একটি সূত্রের খবর, বুধবার রাত রাত দু’টো নাগাদ ভদেরবার মহল্লা কেল্লা এলাকায় নিজেদের বাড়িতে ফিরছিলেন তিন জন। সঙ্গে ছিল কয়েকটি গরু-মোষ। সেই সময়েই তাঁদের উপরে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৫০ বছরের নইম আহমেদের। আহত অবস্থায় পালান বাকি দু’জন। জম্মুর এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, ‘‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও নিয়ন্ত্রণে। শহরে কার্ফু জারি করা হয়েছে।’’ ইয়াসিন হুসেন নামে আহত এক ব্যক্তি অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে তিনটি ঘোড়া ছিল। কিন্তু গরু আছে ভেবে অন্তত ৮ জন তাঁদের উপরে হামলা করে। ডোডার ডেপুটি কমিশনার বলেছেন, ‘‘প্রকৃত ঘটনা এখনও স্পষ্ট হয়নি। নিহত ব্যক্তি সম্ভবত আগে গরু পাচারে যুক্ত ছিলেন। তবে গত কাল তেমন কিছু হয়নি।’’ এই হামলার পিছনে গেরুয়া শিবিরের হাত দেখছেন অনেকে। সনাতন ধর্ম সভা (এসডিএস) নামে একটি সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘‘আমার বিশ্বাস সমাজবিরোধী ও দেশবিরোধী কিছু মানুষের শান্তি ভঙ্গের জন্য এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।’’ গুজব ঠেকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

গত দু’দিনে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এ ধরনের ঘটনা ঘটল জম্মু ও কাশ্মীরে। এর আগে গবাদি পশু নিয়ে যাওয়ার সময়ে উধমপুর জেলায় এক ব্যক্তিকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে তথাকথিত ‘গোরক্ষকদের’ বিরুদ্ধে।