মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনেই ক্যানসার হয়েছে তাঁর। এক ব্যক্তির করা মামলার জেরে বিএসএনএল-এর একটি মোবাইল টাওয়ার বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

অভিযোগকারী বছর বিয়াল্লিশের হরিশ চন্দ্র তিওয়ারি। তিনি গ্বালিয়রের ডাল বাজার এলাকায় এক বাড়িতে পরিচারকের কাজ করেন। তার পাশের বাড়ির ছাদেই বিএসএনএল-এর একটি মোবাইল টাওয়ার বসানো আছে। তিওয়ারির অভিযোগ, ৫০ মিটারের কম দূরত্বে বসানো ওই মোবাইল টাওয়ারের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনের কারণে তাঁর ক্যানসার হয়েছে।

আরও পড়ুন:  গলায় বিষাক্ত গোখরো জড়িয়ে ওঝার কেরামতি, ছোবলে মৃত্যু ব্যক্তির

এই অভিযোগ নিয়েই গত বছর নিবেদিতা শর্মা নামে এক আইনজীবীর সহযোগিতায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিওয়ারি। সুপ্রিম কোর্টে তিনি অভিযোগ করেন, ২০০২ সালে বেআইনি ভাবে ওই টাওয়ার বসানো হয়। ১৪ বছর ধরে সেটার রেডিয়েশনের কারণেই তিনি হজকিন’স লিম্ফোনামা-তে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি নবীন সিনহা-র ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানির পর বিএসএনএল-কে ওই টাওয়ার বন্ধের নির্দেশ দেন। এবং এই নির্দেশ সাত দিনের মধ্যে কার্যকরকরতে হবে বলেও জানিয়ে দেন বিচারপতিরা। টাওয়ারের ক্ষতিকর রেডিয়েশন নিয়ে এক জন ব্যক্তির করা মামলার ভিত্তিতে এই প্রথম কোনও টাওয়ার বন্ধ হতে চলেছে এ দেশে।
তিওয়ারির এই মামলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও মোবাইলের ক্ষতিকর রেডিয়েশন নিয়ে বারংবার হইচই হয়েছে। অনেক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অভিযোগ তুলেছেন, এই রেডিয়েশনের কারণেই হারিয়ে যাচ্ছে চড়ুই, কাক এবং মৌমাছিরা। কিন্তু সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া বারবারই এই অভিযোগকে খারিজ করে। উল্টে তারা দাবি করেছিল, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের কারণেই যে চড়ুই, কাকেরা হারিয়ে যাচ্ছে এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।