দেশে অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আগেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। এ বার মোদী সরকারকে সেই বেহাল দশা কাটানোর দাওয়াইও বাতলে দিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। তাঁর মতে, সরকার এই মুহূর্তে বিবেচকের মতোকাজ না করলে অর্থনীতির এই বেহাল দশা হয়তো আগামী কয়েক বছর বজায় থাকবে।

মনমোহন নিজেও এক সময় কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রীর ভার সামলেছেন। তাঁর মতে, দেশ যে এই সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে, তা প্রথমে স্বীকার করা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার ‘দৈনিক ভাস্কর’ এবং ‘হিন্দু বিজনেস লাইন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই সঙ্কট কাটানোর উপায়ও বলে দিয়েছেন মনমোহন। তাঁর মতে, পরিকাঠামোয় সংস্কার না করলেএ ধরনের সঙ্কট ঘুরেফিরে আসবে। তাঁর কথায়, ‘‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, ভারত অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু কিছু সুবিধা দিয়েবা নোটবন্দির মতো বিষয়ে সময় নষ্ট না করে সরকারের উচিত পরিকাঠামোগত সংস্কার করে পরের প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’’

অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মূলত কী কী দাওয়াই দিয়েছেন মনমোহন?

১) সাময়িক ভাবে রাজস্ব আদায় কম হলেও জিএসটি-কে আরও বাস্তবমুখী করতে হবে।

২) গ্রামীণ উপভোক্তাদের পরিধি বাড়ানো ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করা। মনমোহনের পরামর্শ, এ বিষয়ে মোদী সরকার কংগ্রেসের ইস্তাহারটি দেখতে পারেন, যেখানে কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার উপায় বলে দেওয়া হয়েছে।

৩) বাজারে নগদ যোগান কী ভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

৪) বস্ত্রশিল্প, গাড়িশিল্প, ইলেকট্রনিক্স এবং আবাসন ক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবন করা দরকার। এ সব ক্ষেত্রে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগপতিরা যাতে সহজেই ঋণ নিতে পারেন, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

৫) আমেরিকা ও চিনের বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারতও অসুবিধায় পড়েছে। ফলে ভারতের উচিত আমদানির নয়া ক্ষেত্র খুঁজে বার করা।

আরও পড়ুন: চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে প্রমাণ গায়েব, দাবি শাহজাহানপুরের তরুণীর বাবার

আরও পড়ুন: ‘ধুঁকছে অর্থনীতি, বিপন্ন গণতন্ত্র’, বৈঠকে দলকে বার্তা সনিয়ার, ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ

আরও পড়ুন: ‘কাশ্মীর আমাদেরই’, ৩৭০ রদ নিয়ে মোদীর সমর্থনে এগিয়ে এল জমিয়তে, সমর্থন এনআরসিকেও

চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনে দেশে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। যা গত আর্থিক বৃদ্ধির হার ছ’বছরের সর্বনিম্ন। অথচ গত অর্থ বছরের শেষের তিন মাসে, অর্থাৎজানুয়ারি থেকে মার্চে আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৮ শতাংশ। তবে এ সঙ্কট যে ‘মানব-নির্মিত’, তা মনে করেন মনমোহন। নিজে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি যে ১৯৯১ সালে এ দেশে এবং ২০০৮-এর বিশ্বজোড়াঅর্থনেতিক সঙ্কটের প্রভাব কাটিয়ে উঠেছিলেন, মোদী সরকারকে এ দিন সে কথাও মনে করিয়ে দেন মনমোহন।