পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছত্তীসগঢ়ের দন্তেওয়াড়ায় আজ ভোরে প্রাণ হারিয়েছে বিজেপি বিধায়ক খুনে মূল চক্রী মাওবাদী কমান্ডার মাধবী মুয়্যা ওরফে জগা কুঞ্জম। দন্তেওয়াড়ার এসপি অভিষেক পল্লভ জানিয়েছেন, ২৯ বছর বয়সি এই যুবকের মাথার দাম ছিল আট লক্ষ টাকা। 

এ মাসের গোড়ায় একটি বৈঠকে যাওয়ার পথে মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফোরণে ভীমা মাণ্ডবী নামে ছত্তীসগঢ়ের বিজেপি বিধায়ক নিহত হন। প্রাণ যায় তাঁর সঙ্গে থাকা চার জন কর্মীরও। ডিস্ট্রিক্ট রিজ়ার্ভ গার্ডস এবং ডিস্ট্রিক্ট ফোর্স-এর কর্মীরা আজ ভোরে রায়পুর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে পেরপা এবং মার্কামারিস গ্রামের মাঝামাঝি এলাকার জঙ্গলে তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিলেন। তখনই মাওবাদীদের দিক থেকে ধেয়ে আসে গুলি। শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশের দাবি, সেই সময়ে প্রাণ হারায় মাধবী। ২০১৭ সালে সুকমায় নিরাপত্তা বাহিনীর ২৫ জন সদস্য হত্যার অভিযানেও মাধবী ওরফে জগা অংশ নিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। 

গত কাল মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলিতে আইডি হামলার পরে আজ আবার ছত্তীসগঢ়ের সুকমায় দুই গ্রামবাসীকে হত্যা করেছে মাওবাদীরা। বুধবার রাতে সুকমার কিস্তারাম এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।  গড়চিরৌলি এখনও থমথমে। কাল সেখানে চালক-সহ ১৬ জন পুলিশকর্মীর গাড়ি আইইডি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিয়েছিল মাওবাদীরা। কর্মীদের সকলেই ছিলেন সি-৬০ ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সদস্য। আজ সেখানে দোকানপাট সব বন্ধ ছিল। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

একই সঙ্গে বিহারেও তাণ্ডব চালিয়েছে মাওবাদীরা। বুধবার রাতে বিহারের গয়া জেলার বারাচট্টি থানা এলাকায় সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত জেসিবি ও ট্রাক্টরে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআরপি বাহিনী গেলে মাওবাদীরা চম্পট দেয়। তবে ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাচট্টি থানার ভোক্তাডিহি ও জয়গীরের মধ্যে রাস্তা তৈরির কাজ চলেছে। সেখানেই তিনটি জেসিবি মেশিন এবং একটি ট্রাক্টর রাখা ছিল। তাতেই আগুন দেওয়া হয়েছে।

বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছেন, গভীর রাতে প্রায় ৩০ জনের মাওবাদীর দল সেখানে হামলা চালায়। ‘মাওবাদ জিন্দাবাদ’ এবং ‘মে দিবস জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দিতে হামলা চালানো হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাওবাদীদের দেখে শ্রমিকেরা লুকিয়ে পড়েন। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের মত, রাস্তা তৈরিতে নিয়মিত তোলা আদায় করতে চায় মাওবাদীরা। এই এলাকাতেও তোলাবাজি চালানোর জন্যই হামলা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গয়ার বারাচট্টি থানা এখনও মাওবাদী প্রভাবিত এলাকা বলেই চিহ্নিত। সেখানে এর আগে মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা মাওবাদীদের পিছু হটার কথা বললেও এই ঘটনা অন্য কথাই বলছে।