লোকসভা ভোটের বিপর্যয়ের প্রভাব এ বার ‘মহাগঠন্ধন’-এ। অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটে কার্যত দাঁড়ি টানলেন মায়াবতী। সোমবার দলীয় বৈঠকে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র সুপ্রিমো তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। আসন্ন উপনির্বাচনে একলা চলো নীতির পক্ষেই সওয়াল করেছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী। যদিও এ নিয়ে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র তরফে  কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বহু আশা নিয়ে উত্তরপ্রদেশে গড়ে উঠেছিল ‘বুয়া-বাবুয়া’র জোট। বিজেপিকে হারাতে প্রায় দু’দশক পর চিরশত্রু দুই দল বিএসপি-এসপি পরস্পরের কাছে এসেছিল। সঙ্গে ছিল অজিত সিংহের রাষ্ট্রীয় লোক দল। এই জোটকেই বলা হচ্ছিল ‘মহাগঠবন্ধন’। আসন সমঝোতা করে ভোটে লড়েছিল তিন দল। তার পরেও শোচনীয় ফল জোটের। তবে তুলনায় ভাল ফল বিএসপি-র। ২০১৪ সালে একটিও আসন না পাওয়া মায়াবতীর দলের ঝুলিতে এ বার ১০ আসন। অখিলেশের এসপি সেখানে আগের বারের ৫টি আসন থেকে একটিও বাড়াতে পারেনি।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার লখনউয়ে দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মায়াবতী। ভোট পরবর্তী দলের রণকৌশল ঠিক করতে এবং আসন্ন ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। সেই বৈঠক সূত্রেই খবর, জোট নিয়ে কার্যত বিরক্তিই প্রকাশ করছেন মায়াবতী। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে খবর, অখিলেশের দলকে দূষে মায়বতী বলেছেন, ‘‘মহাগঠবন্ধন বেকার।’’

জোটের সমীকরণ ছিল, এসপি-র যাদব ভোট এবং বিএসপি-র দলিত ভোট এক বাক্সে ফেলতে পারলেই ধরাশায়ী হবে বিজেপি। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তা হয়নি। এমনকি, স্ত্রী ডিম্পলকেও জেতাতে পারেননি অখিলেশ। হেরেছেন অখিলেশের দুই খুড়তুতো ভাই অক্ষয় এবং ধর্মেন্দ্র যাদবও। সেই প্রসঙ্গ টেনেই মায়াবতী বলেছেন, ‘‘অখিলেশ নিজের পরিবারেই আস্থা অর্জন করতে পারেননি। যাদব ভোট আমাদের পক্ষে আসেনি। উল্টে আমাদের ভোট গিয়েছে অখিলেশের দলের পক্ষে। শুধুমাত্র মুসলিম ভোট যে এলাকায় বেশি, সেখানে জিতেছে এসপি।’’

আরও পড়ুন: ‘ইভিএম হঠাও, ব্যালট ফেরাও’, দলকে জাগাতে নতুন আহ্বান মমতার

আরও পড়ুন: রদবদলের মুখে রাজ্য বিজেপি, দেবশ্রী-লকেটকে অব্যাহতির সম্ভাবনা, উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা

বিএসপি নেত্রী মনে করেন, অখিলেশের কাকা শিবপাল যাদব এবং কংগ্রেস বিপুল ভোট কেটেছে জোটের। মায়াবতী ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ‘‘যাদবকূলের নিজেদের এই সঙ্ঘাতের বলি আমরা কেন হব। তাই আসন্ন উপনির্বাচনে আমরা একাই লড়ব।’’

তবে বাবুয়া তথা ভাইপো অখিলেশের উপর মায়াবতী যে ক্ষুব্ধ এমনটা নয়। সে কথাও এ দিন বৈঠকে তিনি উল্লেখ করেছেন বলে একটি সূত্রে খবর। তিনি এ দিন ঘনিষ্ঠ মহলে বার্তা দিয়েছেন, জোট ভাঙলেও অখিলেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খারাপ হবে না। মায়বতী এ-ও বলেছেন, ‘‘অখিলেশ ওঁর বাবার মতো নয়।’’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, মুলায়ম-অখিলেশের তুলনা করে মায়াবতী পরোক্ষে ১৯৯৫ সালের ‘লখনউ গেস্ট হাউস’ কাণ্ডের কথাই টেনে আনতে চেয়েছেন। লখনউ গেস্ট হাউসে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী বৈঠক করছিলেন। সেই বৈঠকে হামলা চালিয়ে তাঁকে চরম হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে মুলায়মের দল এসপি-র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।