জম্মু-কাশ্মীরে তিন জায়গায় একই দিনে হামলা চালাল জঙ্গিরা। সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে তিন জঙ্গি। নিহত হয়েছেন এক সেনাও। জঙ্গিদের হাতে পণবন্দি এক স্থানীয় বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছে বাহিনী। বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে এই প্রথম এত বড় হামলা চালাল জঙ্গিরা। সেনার দাবি, নিহত তিন জঙ্গির মধ্যে রয়েছে বিজেপি নেতা অনিল পরিহার হত্যায় অভিযুক্ত হিজবুল নেতা ওসামা। 

সেনা জানিয়েছে, আজ দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ জম্মুর রামবন জেলার বাটোটে এলাকায় জম্মু-শ্রীনগর সড়কের উপরে একটি বাস থামানোর চেষ্টা করে তিন জঙ্গি। সেনার পোশাক পরা ওই জঙ্গিদের দেখে সন্দেহ হয় বাসচালকের। ফলে তিনি দ্রুত বাস চালিয়ে চলে যান। পরে পুলিশকে খবর দেন ওই চালকই।

সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু করে যৌথ বাহিনী। বৃষ্টির জন্য তল্লাশিতে অনেক বেশি সময় লাগছিল। শেষ পর্যন্ত জঙ্গিদের খোঁজ পায় বাহিনী। জওয়ানদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে তিন জঙ্গি। সেই বাড়ির মালিক বিজেপি কর্মী বিজয় কুমারকে পণবন্দি করে ফেলে তারা।

সেনা মুখপাত্র দেবেন্দ্র আনন্দ জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাণ ও সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য খুব সাবধানে এগোতে হয়েছে বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত বিজয়কে উদ্ধার করেন জওয়ানেরা। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা গুলিবৃষ্টি শুরু করায় ফের অভিযানে নামে বাহিনী। সংঘর্ষে রাজেন্দ্র সিংহ নামে এক সেনা নিহত হন। নিহত হয় তিন জঙ্গিও। গুরুতর জখম হয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। সেনা জানিয়েছে, এ দিনের সংঘর্ষে নিহত হিজবুল নেতা ওসামা জম্মুর বিজেপি নেতা অনিল পরিহার ও তাঁর ভাই অজিত পরিহারের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত। নিহত অন্য দুই জঙ্গি জ়াহিদ ও ফারুক তার সহযোগী। 

দ্বিতীয় ঘটনা ঘটেছে উপত্যকার গান্ডেরবালে। সেখানে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে এক জঙ্গির মুখোমুখি হয় বাহিনী। সংঘর্ষে নিহত ওই জঙ্গি একটি বড় দলের সদস্য হতে পারে বলে ধারণা বাহিনীর। 

তৃতীয় ঘটনা শ্রীনগরের শহরতলি এলাকার। সেখানে জনবিরল একটি এলাকায় আজ হঠাৎ গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা। এ দিন ফের উপত্যকায় চলাচলের উপরে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। তাই ওই এলাকার রাস্তায় বিশেষ কেউ ছিলেন না।  

পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীরে ফের বড় মাপের জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে কয়েক দিন ধরেই দাবি করছে কেন্দ্র। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর সফরে যান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তিনি জঙ্গি দমন অভিযানে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয়দের  প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতি এড়াতে  বাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন তিনি।