জেরায় জেরবার হলেন অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা।

নোট বাতিল করে কী লাভ হল? কালো টাকা, জাল নোট, সন্ত্রাসে আর্থিক মদত—তিন লক্ষ্যের কতখানি পূরণ হল? প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ৫০ দিনের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! এক বছর কেটে গেল। তার পরেও কিছু হল না কেন? ওই তিন লক্ষ্য পূরণের জন্য নোট বাতিল ছাড়া আর কি পদক্ষেপ করা যেতে পারত?

অর্থ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সাংসদদের এই সব প্রশ্নের মুখে অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারি গৎবাঁধা তথ্যের বাইরে নতুন কোনও উত্তর খুঁজে না পেয়ে আশ্বাস দিতে হয়েছে, পরে লিখিত উত্তর পাঠানো হবে।

গত কালই ৮ নভেম্বরের নোট বাতিলের বর্ষপূর্তি ছিল। রাস্তায় নেমে ‘কালা দিবস’ পালন করেছিল কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল থেকে শুরু করে যাবতীয় বিরোধী দল। মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সেই লড়াইটাই আজ উঠে এল সংসদ চত্বরে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।

এই কমিটি এর আগে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত পটেলকেও নোট বাতিল নিয়ে জেরা করেছিল। আজ স্থায়ী কমিটিতে তলব করা হয়েছিল আর্থিক বিষয়ক সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ, ব্যাঙ্ক পরিষেবা দফতরের সচিব রাজীব কুমার, কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদের চেয়ারম্যান সুশীল চন্দ্রকে। বৈঠকে প্রায় সব দলের নেতারাই এক সুরে অভিযোগ তোলেন,
নোট বাতিলের ফলে লাভের থেকে ক্ষতি হয়েছে বেশি। মোদী সরকারই ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গোটা দুনিয়ায় সর্বোচ্চ বলে ঢাক পেটাচ্ছিল। সেই বৃদ্ধির হারও নেমে এসেছে।

ঠিক হয়েছে, অর্থনীতিতে নোট বাতিলের প্রভাব যাচাই করতে আরও তথ্য দরকার। তাই পরের বৈঠকে কৃষি, বাণিজ্য মন্ত্রকের কর্তাদেরও ডাকা হবে। নোট বাতিলের পরে সরকার বলেছিল, এতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়বে। এ নিয়ে টেলিযোগ মন্ত্রক ও অন্যান্য সংস্থাগুলির মতামত জানতে চাইবে কমিটি। নোট বাতিলের কী প্রভাব পড়েছে, তা নিয়ে রাজ্যগুলিরও মতামত চাওয়া হবে।