বল্লভগড়ের ক্ষত দগদগে। তার মধ্যেই এ বার ঝাড়খণ্ডের গিরিডি। সেখানে ‘গোরক্ষক’দের আক্রমণে গুরুতর জখম এক ব্যক্তি। রেহাই পাননি তাঁর পরিবারের লোকজনও। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের বাড়ি।

গিরিডি জেলার দেওরি থানা এলাকার বেরিয়া-হাতিটাঁড় গ্রামে মঙ্গলবার রাতের ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গিরিড শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামসংলগ্ন বাজারের একটি নির্জন জায়গায় একটি মৃত গরু পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল সে দিন। গরুর গলায় কাটা দাগও ছিল। গরুটিকে ওই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কিছু লোকের সন্দেহ গিয়ে পড়ে গ্রামেরই মহম্মদ উসমান আনসারির উপর। উসমান গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত সামগ্রীর ব্যবসা করেন।

সন্দেহ হওয়ামাত্র ঝাঁপিয়ে পড়ে জনতা। প্রায় শ’খানেক লোক উসমানের বাড়িতে চড়াও হয়ে পাথর ছুড়তে থাকে। উসমানের পরিবারের লোকজন বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁদের মারধর করে হামলাকারীরা। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে এলে পুলিশকেও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। রাস্তা অবরোধ করে পুলিশের উপর ইটবৃষ্টি করে জনতা। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় পুলিশ উসমান ও তাঁর পরিবারকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: জুনেইদ-খুনে গ্রেফতার আরও ৪

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শূন্যে ২৪ রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশ। গ্রেফতার ১০। ঘটনাস্থলে পুলিশ পিকেট বসেছে। এলাকায় চলছে টহল। পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণ পণ্ডিত নামে এক গ্রামবাসী জখম হন। হাজারিবাগের ডিআইজি ভীমসেন টুটি বলেন, ‘‘পরিস্থিতি আজ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।’’ উসমান ও কৃষ্ণ, দু’জনকেই পাটলিপুত্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। উসমানদের পরিবারের সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানান ডিআইজি।

দু’বছর আগে উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে বাড়িতে গোমাংস রাখা আছে, এই ধুয়ো তুলে মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মেরেছিল জনতা। তার পর গোমাংস এবং গরু কেনাবেচা নিয়ে বিধিনিষেধ এবং বিতর্ক যত বে়ড়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গোরক্ষকদের দাপাদাপি। সরকার যতই বলুক, খাওয়াদাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা নেই, যতই বলুক গোরক্ষার নামে তাণ্ডব কাম্য নয়— ঘটনাপ্রবাহই বলে দিচ্ছে, হামলা থামার লক্ষণ নেই। নগাঁও, আলওয়ার, বল্লভগড়ের পাশে গিরিডিও। ‘নটইনমাইনেম’ আন্দোলনের খবর উসমানের কানে সম্ভবত পৌঁছলই না!