হরিদ্বারে চিতাভস্ম বিসর্জন হল প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থাকলেন না। কেরলের দুর্যোগ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেন তিনি।

আজ সকাল থেকেই বাজপেয়ীর চিতাভস্ম বিসর্জন নিয়ে সাজো সাজো রব ছিল হরিদ্বারে। কোথা থেকে অস্থিকলস নিয়ে যাত্রা শুরু হবে তা নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে মতভেদের কথাও শোনা গিয়েছে হরিদ্বারের আনাচ কানাচে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ভাল্লা কলেজ চত্বর থেকেই যাত্রা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হর কি পৌড়ির জলি গ্র্যান্ট বিমানবন্দরে ভিআইপি যাতায়াত সামলাতে মোতায়েন ছিলেন ১ হাজার নিরাপত্তারক্ষী।

সেইসঙ্গে অপেক্ষায় ছিলেন কাতারে কাতারে মানুষ। হর কি পৌড়ির ঘাটে, ছাদের উপরে, বাড়ির বারান্দায়। জলি গ্র্যান্ট বিমানবন্দর থেকে চিতাভস্ম নিয়ে ভাল্লা কলেজ চত্বরে এসে পৌঁছন বাজপেয়ীর পালিতা কন্যা নমিতা ও জামাই রঞ্জন ভট্টাচার্য। সঙ্গে অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়তের মতো শীর্ষ নেতারা। ভাল্লা কলেজ চত্বর থেকে হর কি পৌড়ির ঘাটের দিকে রওনা হল ফুলে ঢাকা ট্রাক। সরু রাস্তার দু’দিকে ট্রাকের উপরে ফুলবৃষ্টি শুরু করল জনতা। বার বার শোনা গেল ‘অটলজি অমর রহে’, ‘যব তক সুরজ চাঁদ রহেগা, অটলজি কা নাম রহেগা’, ‘বন্দে মাতরম’।

হর কি পৌড়ির ঘাটে ব্রহ্মকুণ্ডে তৈরি ছিল বিশেষ মঞ্চ। সেখানে পৌঁছনোর পরে ২০ মিনিট ধরে চলে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন। দায়িত্বে ছিলেন তীর্থ পুরোহিত অখিলেশ শাস্ত্রী। তার পরে আসে অস্থিবিসর্জনের পালা। স্বামীর গায়ে ভর দিয়ে নিজেকে সামলান নমিতা।

হরিদ্বারের পরে বাজপেয়ীর অস্থিকলস নিয়ে এ বারে যাত্রা হবে বিভিন্ন রাজ্যেও। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান তাঁর রাজ্যের সব গ্রাম পঞ্চায়েতে নিয়ে যাবেন বাজপেয়ীর অস্থিকলস। সামনের পাঠ্যবর্ষ থেকে স্কুলে পড়ানো হবে বাজপেয়ীর কথাও। এ ছাড়াও তিনটি পুরস্কারও অটলের নামে ঘোষণা করেছেন শিবরাজ। কবিতা, সাংবাদিকতা ও প্রশাসনে সেরাদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে।

উত্তরপ্রদেশেও সব নদীতে বিসর্জন হবে বাজপেয়ীর অস্থি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর রাজ্যে চারটি স্মারক তৈরি করবেন বাজপেয়ীর নামে। একটি হবে বাজপেয়ীর পৈতৃক ভিটে আগরার বটেশ্বরে। বাকি তিনটি কানপুর, বলরামপুর, লখনউতে। কাল দিল্লিতে ইন্দিরা গাঁধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামেও সর্বদল প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সকলকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।

বিজেপি সূত্রের দাবি, মোদী নিজে অটলকে নিয়ে কোনও অনুষ্ঠানে হাজির থাকলে তাঁর সঙ্গে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর তুলনা শুরু হচ্ছে। তাতে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছে মোদী শিবির। আবার অটলের ঐতিহ্যও বিজেপির কাছে একান্ত প্রয়োজনীয়। তাই মোদী নিজে সরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে হাজির থাকবেন অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা। একই সঙ্গে বোঝানোর চেষ্টা হবে, রাজ্যস্তরে মুখ্যমন্ত্রীরা অটলবিহারীর স্মৃতিতে নানা পদক্ষেপ করছেন। মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে প্রয়াত নেতার প্রতি মানুষের আবেগকে।