চাঁদের হাটে হরষে শপথ দ্বিতীয় দফার
প্রাঙ্গণে তখন চাঁদের হাট। শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বলিউডের তারকা, বিদেশি রাষ্ট্রনেতা-রাষ্ট্রদূত, শিল্পপতি ও বাণিজ্যকর্তায় ভরপুর রাষ্ট্রপতি ভবন। স্থির ছিল ৬ হাজার লোককে ডাকা হবে। বাস্তবে আজ আমন্ত্রিতদের সংখ্যা তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। 
Modi

শপথবাক্য পাঠ নরেন্দ্র মোদীর।— ছবি এএফপি।

রাষ্ট্রপতি ভবনের পতাকা নামিয়ে নেওয়া হল সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে। তার ঠিক এক ঘণ্টা পরে সামনের প্রাঙ্গণ হর্ষধ্বনিতে কাঁপিয়ে উদয় হলেন নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ধ্বনি, ‘ভারত মাতা কি জয়’ হয়ে কার্যত ফেটে পড়ল, যখন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনি বলা শুরু করলেন, ‘ম্যায়,  নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী…..।’

প্রাঙ্গণে তখন চাঁদের হাট। শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বলিউডের তারকা, বিদেশি রাষ্ট্রনেতা-রাষ্ট্রদূত, শিল্পপতি ও বাণিজ্যকর্তায় ভরপুর রাষ্ট্রপতি ভবন। স্থির ছিল ৬ হাজার লোককে ডাকা হবে। বাস্তবে আজ আমন্ত্রিতদের সংখ্যা তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।   

পাঁচ বছর আগে এমনই এক গ্রীষ্মে বিকেলের প্রখর রোদে শপথ নিয়েছিলেন মোদী। এ বারে গরমের কথা খেয়াল রেখেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে শপথগ্রহণের সময়। তার পরেও মা সনিয়া গাঁধীকে সঙ্গে নিয়ে সাদা কুর্তা-পাজামা পরা রাহুল গাঁধী এসেই জলের বোতল তুলে নিলেন হাতে। তার আগেই অবশ্য কংগ্রেসের তরফে পৌঁছে গিয়েছেন গুলাম নবি আজাদ। পৌঁছেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও। আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে করজোড়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ কথা বলতে দেখা গেল প্রাক্তন স্পিকার সুমিত্রা মহাজনকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কালই জানিয়ে দিয়েছিলেন, শপথে আসবেন না। তাঁর দলের সাংসদরাও কেউ ছিলেন না অনুষ্ঠানে। বিরোধীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি ছিল বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর। ডিএমকে সূত্রের দাবি, তাদের আমন্ত্রণই জানায়নি কেউ! তবে এসপি-র অখিলেশ যাদবকে দেখা না গেলেও ছিলেন বর্ষীয়ান মুলাময় সিংহ যাদব। রাষ্ট্রপতি ভবনে ঢোকার পরই আজ তাঁকে দেখা গেল অমিত শাহের কাঁধে হাত রেখে গদগদ হয়ে কথা বলছেন।  

অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন রতন টাটা। পরে ঢুকলেন সপরিবার মুকেশ অম্বানী। বসলেন দর্শকাসনের একেবারে সামনের সারিতে। বলিউড বাহিনী বসেছিল একটি বৃত্ত তৈরি করে। সেলফিতে মগ্ন কর্ণ জোহর, বিবেক ওবেরয়, কঙ্গনা রানাউত, মধুর ভান্ডারকররা। আলাদা ভাবে ঢুকলেন রজনীকান্ত। নিমন্ত্রিত থাকলেও দক্ষিণী তারকা কমল হাসনকে দেখা যায়নি। ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার সুনীল অরোরা, প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈরা। অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে বিজেপির মার্গদর্শকমণ্ডলীর সদস্য লালকৃষ্ণ আডবাণী ও মুরলীমনোহর জোশীকেও। 

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল হাজির থাকলেও দেখা যায়নি আর এক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে। লোকসভায় বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে গিয়ে মিষ্টিমুখ করে এসেছেন ‘প্রণবদা’র বাড়িতে। আজ প্রণববাবুর অনুপস্থিতির কারণ হিসাবে তাঁর অফিস থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে আর কখনওই ওই ভবনে ফিরে যাননি প্রণব। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

লোকসভা ভোটের ফলের পরে বলা হচ্ছিল এই জয় যতটা না বিজেপির, তার চেয়ে বেশি নরেন্দ্র মোদীর। আজ রাষ্ট্রপতি ভবনের খণ্ডচিত্রও প্রায় সেই সুরেই কথা বলল। মঞ্চের প্রথম সারিতে শপথের জন্য ১২টি চেয়ার রাখা ছিল। একেবারে প্রথমটি মোদীর জন্য ফাঁকা রেখে সেখানে পরপর বসেছিলেন রাজনাথ সিংহ, অমিত শাহ, নিতিন গডকড়ী, সদানন্দ গৌড়া, নির্মলা সীতারামনরা। ইঙ্গিত স্পষ্ট, পূর্ণমন্ত্রী হতে চলেছেন এঁরা। কিন্তু অমিত শাহ বাদে অন্যরা শপথ নেওয়ার সময় যে হর্ষধ্বনি হয়েছে, তার যোগফলকেও হারিয়ে দিয়েছে প্রথম বারের উল্লাস।

চেয়ার থেকে উঠে এসে প্রথম জন যখন বলতে শুরু করলেন ‘ম্যায়, নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী…’।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত