দেশে এমনকি বিদেশেও আরএসএস-এর ভাবমূর্তি বদলাতে সক্রিয় হচ্ছেন মোহন ভাগবত।

গণপিটুনি-আর্থিক দুরবস্থা-এনআরসি-বেকারির মতো একাধিক বিষয় ক্রমশ অস্বস্তি বাড়াচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের। দেশে তো বটেই, বিদেশেও এই ধরনের বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যার সূত্রে আঙুল উঠছে সঙ্ঘের দিকেই। এই অবস্থায় দিল্লিতে আজ প্রায় ৮০ জন বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সরসঙ্ঘচালক। সেখানে একাধিক বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, যার জবাব দেন তিনি। সংবাদ সংস্থার মতে, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ভাগবত ক’দিন আগেও বলেছিলেন, এক জন হিন্দুকেও দেশছাড়া হতে হবে না। আজ সেই সুর বদলে আরএসএস প্রধান জানান, এনআরসি-র উদ্দেশ্য মানুষকে দেশছাড়া করা নয়। বরং নাগরিকদের চিহ্নিত করা। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, হিন্দুদের জন্য ভারতই বিশ্বের একমাত্র দেশ।

সন্ধ্যায় সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত একটি অসরকারি সংস্থার অনুষ্ঠানে যান ভাগবত-সহ সঙ্ঘ নেতারা। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের উপস্থিতিতে দেশে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তাতে মেনে নেওয়া হয়েছে, ১৮-৩০ বছরের মহিলাদের মধ্যে বেকারির হার সব থেকে বেশি। মজুরিতেও পুরুষদের থেকে পিছিয়ে তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হলেও তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

এই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বিদেশি ওই সাংবাদিকেরাও। সেখানে কাশ্মীর থেকে গণপিটুনি— অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেন সঙ্ঘপ্রধান। সংবাদ সংস্থার মতে, ভাগবত সেখানে জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে কোনও স্বয়ংসেবক দোষী হলে সঙ্ঘ তাঁর পাশে থাকবে না। ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর জম্মু-কাশ্মীরের জমি ও রোজগার হারানোর ভয়ও দূর করতে হবে। সঙ্ঘ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সমর্থন করে, তবে সেটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক ঝিমুনি নিয়ে প্রশ্নে ভাগবত অবশ্য সরাসরি জবাব এড়িয়েছেন।