মাত্র চার সপ্তাহের সংসদের অধিবেশন। তবু সংশয় কাটছে না সাংসদদের। অতীতের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না, চার সপ্তাহেই মিটবে তো?

গত সপ্তাহেই রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বে স্থির হয়, সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হবে ১৮ নভেম্বর। শেষ হবে ১৩ ডিসেম্বর। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে মাত্র চার সপ্তাহ। কাজের দিন মাত্র কুড়ি। কিন্তু বিজেপিরই একাধিক সাংসদ বলছেন, গত কয়েকবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয়েছে নভেম্বরের ২০ তারিখের আশেপাশে। কিন্তু শেষ হয়েছে বছর গড়িয়ে জানুয়ারির গোড়ায়। আগেকার আমলে ২৫ ডিসেম্বেরর আগেই শেষ হত অধিবেশন। ‘বড়দিন’ আর অটলবিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিন পালন হত ধুমধাম করে। বছরের শেষ ও নতুন বছরটি সাংসদরা কাটাতেন পরিবারের সঙ্গে, নিজের কেন্দ্রে। কিন্তু সে সব ‘ছুটি’ বাতিল করে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। 

এ বারে কী হবে? এই প্রশ্নই তাড়া করে বেড়াচ্ছে সাংসদদের। সংসদীয় মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংসদের দুই কক্ষের সচিবকে সম্ভাব্য দিন ক্ষণ আজ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও অনেক সাংসদের মনে প্রশ্ন, ‘‘এখন অধিবেশন ছোট রেখে পরে কি ফের বাড়িয়ে দেওয়া হবে?’’ বাদল অধিবেশনের মেয়াদও হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আচমকাই ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদে পাশ করিয়ে নেন অমিত শাহ। 

এ বারে দু’টি মাত্র অধ্যাদেশ আছে। ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলে গ্রাহকদের টাকা ফেরত সংক্রান্ত একটি বিল নিয়েও ফের আলোচনা চলছে। এ ছাড়াও অনেক বিল বকেয়া। তা সত্ত্বেও অধিবেশন এত ছোট কেন? কী আছে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের মনে? অধিবেশন শুরুর ঠিক আগেই অযোধ্যার রায় আসবে। তাতেই কি মেতে থাকবে বিজেপির রাজনীতি? না কি আরও কিছু আছে ঝুলিতে? রাজধানীতে গুঞ্জনের শেষ নেই।