ঝগড়া থেকে মার। সেই মারের চোটে মৃত্যু হয়েছিল স্ত্রীর। তার পর দরজা বন্ধ করে স্ত্রীর দেহের পাশে দু’দিন ধরে বসে ছিলেন তিনি। স্ত্রীকে মারার দু’দিন পর নিজের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হননি। শিরা কেটে অচৈতন্য অবস্থায় ওই ব্যক্তি পড়েছিলেন স্ত্রীয়ের দেহের পাশে। তার পর ওই ব্যক্তির প্রতিবেশীদের থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ এসে উদ্ধার করে ওই দম্পতিকে।

 ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের সিয়ানের শাস্ত্রীনগরে। পুলিশ জানিয়েছে গত ২১ মে তাঁদের কাছে একটি ফোন আসে। সেখানে ওই দম্পতির প্রতিবেশীরা জানান, দু’দিন ধরে ঘর বন্ধ ছিল। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বেরিয়ে আসার বিষয়টিও পুলিশকে তারা জানিয়েছিলেন। এর পরই সেখানে যায় পুলিশ। গিয়ে দেখে, স্ত্রীর মৃতদেহের পাশে শিরা কেটে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ মে।

উদ্ধারের পর ওই দম্পতিকে সিয়ন হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি বেঁচে গেলেও তাঁর স্ত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসকরা। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে দেখা যায় মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের জেরেই মৃত্যু হয়েছিল ওই মহিলার। হাসপাতালে চিকিৎসার পর একটু সুস্থ হলে ওই ব্যক্তিকে গত ২৪মে গ্রেফতার করে পুলিশ।

স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরা ফেলা ওই ব্যক্তির নাম সঞ্জয়কুমার পদিহরি। তাঁর বয়স ২৯ বছর। এক পোশাক তৈরির দোকানে সে শ্রমিকের কাজ করত বলে জানা গিয়েছে। আর তাঁর স্ত্রীর নাম সুমন। 

আরও পড়ুন: আপত্তিকর ছবি ছড়িয়েছে প্রাক্তন প্রেমিক! ছেলেকে নিয়ে আত্মঘাতী মা

ওদালা টিটি পুলিশ স্টেশনের সিনিয়র ইনস্পেকটর রাজেন্দ্র সাঙ্গলে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মদে আসক্ত ছিলেন। এই নিয়ে স্ত্রীয়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হত তাঁর। তিনি বলেছেন, ‘‘গত ১৯ মে কাজ থেকে ফেরার সময় মত্ত অবস্থায় ছিলেন সঞ্জয়। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া লাগে তাঁর। এর পরই স্ত্রীকে ভারী জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিলেন।’’

জেরার শুরুতে অসংলগ্ন কথা বললেও পুলিশি চাপের মুখে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন সঞ্জয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

আরও পড়ুন: মোদীতে মুগ্ধ! ছেলের নাম ‘নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী’ রাখলেন উত্তরপ্রদেশের মুসলিম মহিলা