ভোট ঘোষণার দিনেই ফের ‘ভারত-বিরোধী শক্তি’কে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গাজ়িয়াবাদে সিআইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বললেন, ‘‘যথেষ্ট হয়েছে। ভারত অনির্দিষ্টকাল ধরে যন্ত্রণা ভোগ করতে রাজি নয়।’’

কোনও বাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির নজির সাম্প্রতিক কালে নেই বলেই জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট শিবির। কিন্তু পুলওয়ামা-বালাকোটের পরে 

আধাসেনার অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বার্তা দেওয়ার সুযোগ মোদী ছাড়তে চাননি বলেই মনে করছেন রাজনীতিকেরা। সিআইএসএফের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রতিবেশী দেশ বিরোধী কিন্তু তার যুদ্ধ লড়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু দেশের মধ্যে বিভিন্ন শক্তিকে সীমান্তের ওপার থেকে মদত দেওয়া হচ্ছে। তার ফলেই দেখা যাচ্ছে সন্ত্রাসের বীভৎস চিত্র। এই পরিস্থিতিতে দেশ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।’’ পরোক্ষে বালাকোট অভিযানের কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘কখনও কখনও সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’’ 

দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও পরিবহণ ব্যবস্থা পাহারা দেয় সিআইএসএফ। ওই বাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তিকে পাহারা দেওয়ার চেয়ে কোনও প্রতিষ্ঠানকে পাহারা দেওয়া অনেক বেশি কঠিন। সেখানে প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। আপনারা কেবল গেটে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন না। দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করছেন।’’ 

এই প্রসঙ্গে দেশের ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়েও সরব হয়েছেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘তল্লাশির সময়ে অনেকেই বিরক্ত হন। বোঝাতে চান, তাঁরা বিশেষ কেউ। তাতে আপনাদের কাজের অসুবিধে হয়। মানুষের উচিত জওয়ানদের সঙ্গে সহযোগিতা করা। এ জন্য তাঁদের শৃঙ্খলার শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।’’ সিআইএসএফে মহিলাদের নিয়োগের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে পুলওয়ামা নিয়ে এ দিন প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি রাহুল গাঁধী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পুলওয়ামায় নিহত জওয়ানদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাসুদ আজহারকে ভারতের জেল থেকে কারা মুক্তি দিয়েছিল? বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাই তাকে নিয়ে কন্দহরে গিয়েছিলেন।’’ অপহৃত ভারতীয় বিমান আইসি-৮১৪-এর যাত্রীদের বিনিময়ে মাসুদকে মুক্তি দিয়েছিল তৎকালীন এনডিএ সরকার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বুরোর অন্যতম কর্তা হিসেবে তখন জঙ্গিদের সঙ্গে দরকষাকষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ডোভাল। এ দিন কন্দহর বিমানবন্দরে সেই সময়ে তোলা ডোভালের ছবিও টুইট করেছেন রাহুল। টুইটারে বিজেপির জবাব, ‘‘যখন অপহৃত বিমানের যাত্রীদের জন্য সারা দেশ প্রার্থনা করছিল তখন আপনি সম্ভবত ভিডিয়ো গেম খেলছিলেন। পঠানকোট হামলার হ্যান্ডলার লতিফকে যে ইউপিএ সরকারই মুক্তি দিয়েছিল সে কথা কি আপনার মনে আছে?’’ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে জইশ জঙ্গি লতিফকে সে দেশে ফেরৎ পাঠিয়েছিল ইউপিএ সরকার। পরে লতিফই পঠানকোট হামলায় হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করেছিল। 

এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের পাশাপাশি এখনও পুরোপুরি শান্ত হয়নি সীমান্ত। রাজস্থানে গত কাল দু’বার সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করে পাকিস্তানি ড্রোন। গঙ্গানগর সেক্টরে বিএসএফের 

গুলিবৃষ্টির মুখে পড়ে পাকিস্তানে ফিরে যায় একটি ড্রোন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ হিন্দুমালকোট সীমান্তে অন্য একটি ড্রোনকে গুলি করে নামায় সেনা। অন্য দিকে আজ 

কাশ্মীরের পুলওয়ামাতেই ফের জঙ্গিদের সঙ্গে বাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। উত্তর কাশ্মীরের বারামুলায় পাকিস্তানি হামলায় আহত হয়েছেন এক মহিলা-সহ চার স্থানীয় বাসিন্দা।