নতুন স্পিকারের অভিষেকেও ঘুরপথে সংখ্যার জোর দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চেপে ধরলেন বিরোধীরা, এমনকি নিজেদের শরিকরাও। সর্বসম্মতিতে আজ লোকসভার স্পিকার হলেন ওম বিড়লা। নরেন্দ্র মোদী, অধীর চৌধুরী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিজেডির পিনাকী মিশ্র, ডিএমকের টি আর বালু, অকালির সুখবীর সিংহ বাদলরা তাঁকে স্পিকারের আসনে বসিয়ে দিলেন। তার পরেই প্রথম যে শব্দটি নতুন স্পিকার বললেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’’ যদিও তখনও সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীর সকলকে ধন্যবাদ দেওয়া বাকি ছিল।

এর পর ওম বিড়লার সামাজিক কাজের তারিফ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘হার্ডকোর রাজনীতির জমানা শেষ হতে চলেছে। এখন যে যত ‘সেবা’ করবেন, স্বীকৃতি তত হবে। ওম বিড়লা এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি এই সেবার কাজ নিরন্তর করে গিয়েছেন। মুখে অল্প হাসি রেখে, অল্প কথা বলে। শুধু ভয় পাই, তাঁর এই নম্রতার কেউ অপব্যবহার না করেন।’’

এর পরেই লোকসভায় সংখ্যার জোরের কথাটি মুখ থেকে বেরিয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। বলেন, ‘‘অতীতে লোকসভার স্পিকারের কাজ সামলানো কঠিন হত রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের তুলনায়। এখন এটি উল্টো।’’  যদিও প্রধানমন্ত্রীই সংসদের প্রথম দিনে বলেছিলেন, কে কত সংখ্যা পেয়েছে, তা ভুলে কাজ করতে হবে। আজ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদের অনেকেই স্মরণ করিয়ে দিলেন, লোকসভায় যেন সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট না দেখায় শাসক শিবির। যেমন তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে বিঘ্ন ঘটায়। লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা অধীর চৌধুরীও মনে করিয়ে দেন, সংসদীয় কমিটিকে এড়িয়েই বিল পাশ হচ্ছে। অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে। একে এড়ানো উচিত। বিজেপির ‘বন্ধু’ দল বিজেডির পিনাকী মিশ্রও একই আশঙ্কার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘‘এই সরকারের যথেষ্ট দাপট আছে। গত পাঁচ বছরে সংসদীয় কমিটিতে অনেক বিল যায়নি। এটি একেবারেই ঠিক নয়।’’

শিবসেনার সাংসদ ও মোদী সরকারের মন্ত্রী অরবিন্দ সবন্ত কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু সামলে নিয়ে মন্তব্য করলেন, ‘‘এখন আর রাজনীতির কথা বলব না। আমরা এখন সরকারে।’’ নতুন স্পিকার অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, সরকারের জবাবদিহি তিনি সুনিশ্চিত করবেন। বিরোধীদেরও সুযোগ দেবেন। কিন্তু প্রথম বক্তৃতায় বারবার মোদীর প্রশস্তি ও ভোটে বিজেপির সাফল্যের কথাই শোনা গেল স্পিকারের মুখে।