তিন হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে তেরো কিলোমিটার বাইপাস উদ্বোধন! শিলান্যাস শহরের সিসিটিভির, জল নিকাশির! নতুন বাড়ির ভূমি পূজন!

শেষ বাজারে এ সবই করছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের আনাচে-কানাচে যেখানে যা কিছু আছে, সব প্রকল্পের ফাইল এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। ফিতে কাটা হোক বা নারকেল ফাটানো— ভোট মরসুমে কোনও সুযোগই হাতছাড়া করছেন না নরেন্দ্র মোদী।

মোদী আর অমিত শাহ মিলে স্থির করেছেন, ভোট ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী সভা করবেন বিজেপির দুর্বল জমিতে। সেখানে যত প্রকল্প আছে, সব ঘোষণা করে আসবেন। তৈরি হওয়া প্রকল্প চালু করবেন নিজে, নতুন প্রকল্পের শিলান্যাসও সেরে ফেলবেন।

মোদীর এমন মরিয়া প্রয়াস দেখে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিদ্রূপের ঝড় উঠেছে। বিরোধীরাও এক হাত নিচ্ছে। কংগ্রেসের আহমেদ পটেল যেমন বললেন, ‘‘নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে নরেন্দ্র মোদী এখন মরিয়া। তাঁর সরকার এখন সব পরিসংখ্যান তৈরি করে। নিজেরাই ছবি তৈরি করে। আবার নিজেরাই নিজেদের পুরস্কার তৈরি করে দেয়।’’

আরও পডু়ন: সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহেই একই দিনে মহারাষ্ট্রের সোলাপুর আর উত্তরপ্রদেশের আগরায় গিয়েছিলেন। আগরায় জলের সরবরাহ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন, মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি বিভাগের একশোটি বেডের শিলান্যাস করেছেন। গত লোকসভা ভোটের আগে স্বপ্ন ফিরি করে দেশ জুড়ে একশোটি স্মার্ট সিটি তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন মোদী। সে সব স্মার্ট শহর এখনও কেউ চোখে দেখেননি, কিন্তু আগরায় গিয়ে তার সিসিটিভি প্রকল্পের শিলান্যাস সেরে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোলাপুরে নিকাশি ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন, জলের লাইনের ভূমি পূজন করেছেন, ৩০ হাজার বাড়ির শিলান্যাস করেছেন।

গত কালই তিনি গিয়েছিলেন কেরলে। সেখানে ১৩ কিমি বাইপাস উদ্বোধন করেছেন। আজ সকালে ছিলেন ওড়িশায়। সেখানে তাঁর জন্য অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করতে নাকি হাজারখানেক গাছ কাটতে হয়েছে। সেখানে মোদী এমন একটি জায়গায় রেললাইন উদ্বোধন করেছেন, যে গ্রামে থাকেন মাত্র কুড়ি জন লোক।

শিলা-স্তূপ

আগরা, উত্তরপ্রদেশ

• জল সরবরাহের উদ্বোধন

• ‘স্মার্ট সিটি’-র সিসিটিভি প্রকল্পের শিলান্যাস

• মেডিক্যাল কলেজে একশো শয্যার প্রসূতি বিভাগের শিলান্যাস

শোলাপুর, মহারাষ্ট্র

• নিকাশি ব্যবস্থার উদ্বোধন

• জলের লাইনের ভূমিপূজন

• ৩০ হাজার বাড়ির শিলান্যাস

কোল্লম, কেরল

• ১৩ কিমি কোল্লম বাইপাস উদ্বোধন

• মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

বলাঙ্গির, ওড়িশা

• রেললাইন উদ্বোধন

বিজেপি বলছে, গাছ কাটার অভিযোগ ঠিক নয়। আর নরেন্দ্র মোদী এমন এক প্রধানমন্ত্রী, যিনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের উন্নয়নের কথা ভাবেন। তাতে ক্ষতি কী? অন্য দিকে কংগ্রেসের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী তো বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সিসিটিভি, নিকাশি ব্যবস্থা বা বাইপাসের উদ্বোধন তো যে কোনও মন্ত্রীই করতে পারেন। তার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর কী প্রয়োজন? তাঁর হাতে আর কিছু নেই বলেই কি এই হাল?

বিজেপির এক সূত্রের মতে, বিরোধীরা যা-ই বলুক, প্রধানমন্ত্রী থামবেন না। আগামী কয়েক সপ্তাহে তাঁর আরও কয়েকটি রাজ্যে সফর চূড়ান্ত হয়ে আছে। সে সব জায়গাতে গিয়েও এমন আরও প্রকল্পের উদ্বোধন বা শিলান্যাস করবেন তিনি। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে যেটি ছোট প্রকল্প মনে হয়, সেটি সেই এলাকার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘‘বড় ঘোষণাও হবে। সবে তো উচ্চবর্ণের সংরক্ষণের ঘোষণা করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আস্তিনে আরও তাস আছে। ভোট পর্যন্ত দফায় দফায় সেই তাস খেলে ভোটের মোড় ঘোরাবেন তিনি। অপেক্ষা করুন।’’