পাঁচ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে তো বটেই, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটের প্রচার-পর্বেও কাজ ‘না করতে পারা’র দোষ চাপিয়েছেন জওহরলাল নেহরুর ঘাড়ে! পাঁচ বছর ধরে মনমোহন সিংহকেও ছাড়েননি। কখনও ‘মৌন-মোহন’, কখনও ‘রেনকোট পরে স্নান করেন’ বলে কটাক্ষ করেছেন। আজ সেই নেহরু-মনমোহনকেই প্রশস্তিতে ভরিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী! মনমোহন-নরসিংহ রাওকে ‘ভারতরত্ন’ না দেওয়ার জন্য কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন, আবার প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার কৃতিত্ব দিলেন নিজেকেই। 

লোকসভায় রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ধন্যবাদ জ্ঞাপন বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসলে বিঁধছিলেন গাঁধী পরিবারকে। বিরোধী শিবিরের সামনের সারিতে তখন রাহুল গাঁধী, সনিয়া গাঁধী। গত কালই কংগ্রেসের তরফে লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, মোদী জমানায় পূর্বতন কোনও সরকারকে গণ্যই করা হয় না। তারই জবাব দিতে গিয়ে কিছুটা হুঁশিয়ারির সুরে মোদী বললেন, ‘‘দাস ফার নো ফারদার।’’ তার পর শোনালেন, তিনিই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি লালকেল্লা থেকে এ যাবৎ দেশের সব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছেন। অথচ কংগ্রেস কখনও অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের তারিফ করেনি। শুধু অটল কেন, মনমোহন সিংহ, নরসিংহ রাওয়ের নামও নেয়নি কংগ্রেস। 

মোদী এ দিন বলেন, ‘‘নরসিংহ রাও এবং ইউপিএ-র প্রথম দফার পরে মনমোহন সিংহকে ভারতরত্ন দেওয়া কথা ভাবা হয়নি। পরিবারের বাইরের লোকেরা কিছুই পান না। অথচ ‘প্রণবদা’ কোন দলের জন্য নিজের জীবন সমর্পণ করেছেন, তা না ভেবেই তাঁর অবদানের কথা বিবেচনা করে আমরা তাঁকে ভারতরত্ন দিয়েছি।’’ মোদী তাঁর বক্তৃতা শেষ করলেন নেহরুকে ‘মহাপুরুষ’ অ্যাখ্যা দিয়ে এবং ১৯৫১ সালে নেহরুর একটি উদ্ধৃতি দিয়ে। কংগ্রেসের প্রথম ইস্তাহার ঘোষণার আগে নেহরু যেখানে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘অধিকার আর সুবিধার জন্য কর্তব্য ভুলে গেলে বাকি দু’টিও থাকবে না।’’ এ দিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘নেহরুর পথ ধরেই আমাদের সকলকে এগোতে হবে।’’

গত পাঁচ বছর এবং গোটা ভোট-পর্বে যিনি সব কিছুতেই নেহরুকে বিঁধেছেন, তাঁর মুখে এমন প্রশস্তি! কংগ্রেসের নেতাদের বক্তব্য, আসলে রাহুল-সনিয়া গাঁধীদের সরাসরি নিশানা করতেই এমন কৌশল নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পরে এ বারে মনমোহন সিংহ, নরসিংহ রাওকে যদি মোদী সরকার ‘ভারতরত্ন’ দেয়, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কংগ্রেসের মধ্যে ফাটল ধরিয়ে আমাদের দলের নেতাদের কেড়ে নিতেই এমন চাল দিচ্ছেন মোদী। তা না হলে আজকের বক্তৃতাতেই গুজরাতে সর্দার সরোবর বাঁধ নির্মাণ নিয়ে নেহরু গড়িমসি করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলে তাঁকে তুলোধনা করেছেন মোদী।’’ অধীর বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এখনও ভোটের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এত দিন তিনি কংগ্রেসের কোনও নেতাকে উদ্ধৃত করতেন না। আজ নেহরুকে উদ্ধৃত করতে বাধ্য হয়েছেন। সেটাই আমাদের বড় জয়।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।