সকালে গুজরাতের নর্মদা জেলার কেভেদিয়ায় প্রজাপতি উদ্যানে গিয়ে ব্যাগে আটকে রাখা অসংখ্য প্রজাপতি উড়িয়ে দিলেন আকাশে।  তার আগে হেলিকপ্টারে বসে আকাশ থেকে তুলেছিলেন বল্লভভাই পটলের মূর্তি ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’-র ভিডিয়ো। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিলেন সেটি।

সকালেই পৌঁছেছিলেন সর্দার সরোবর বাঁধ প্রকল্প ও নর্মদা জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। বাঁধের জলস্তর যাতে বাড়ে, সে জন্য পুজো দিয়ে পৌঁছলেন গাঁধীনগরে মা হীরাবেনের সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে মায়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ। তার পর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছবি তোলা।

মঙ্গলবার তাঁর ৬৯তম জন্মদিনটি এ ভাবেই কাটালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকাল থেকেই শুভেচ্ছা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গাঁধী থেকে সনিয়া গাঁধী। মমতা-সহ অন্য বিরোধী নেতানেত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী।

কাল মধ্যরাত থেকেই বিজেপির  নেতা-মন্ত্রীরা কেক কেটে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করেন। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপে মোদী সরকারের সিদ্ধান্তের কথা ভেবে একটি কেকের উপরে লেখা ৩৭০ আর ৩৫-এ। দিল্লিতে বিজেপি নেত্রী মীনাক্ষী লেখি কেটেছেন ৩৭০ কেজির কেক, কোথাও আবার কেক ছিল ৬৯ কেজির।

জন্মদিনে বন্দি প্রজাপতিদের মুক্ত করছেন নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার গুজরাতের কেবাডিয়ায়। ছবি: পিটিআই।

দিল্লির আজমেঢ়ী গেটে প্লাস্টিকের কুফল নিয়ে মোদীর বক্তব্যের প্রচারে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় গয়াল ও ভি কে সিংহ। মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে ক্রীড়া জগতের বিশিষ্টরাও। 

এত উচ্ছ্বাসের মধ্যেই বিতর্ক বাধিয়ে বসেছেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের স্ত্রী অমৃতা। কাল রাত দেড়টা নাগাদ টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘জাতির জনক নরেন্দ্র মোদীজিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজে তিনি আমাদের প্রেরণা।’’ এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন মুতিনি। কেউ লিখেছেন, ‘‘জাতির জনক মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী। এই জাতির জনক নতুন। মোদী কবে জাতির জনক হলেন। কী ভাবে?’’

ভক্তদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও ছিল খোঁচা। মোদীর জন্মদিনে ‘মিম’ করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী তারুর। বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় মোদীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাঠাচ্ছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবি তুলে ধরে অমিত শাহের হিন্দি-তত্ত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন শশী। আর আজ সকালে যে সর্দার সরোবর প্রকল্পে পৌঁছেছিলেন মোদী, সেখানেও উঠেছে প্রশ্ন। ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’-এর কর্মীরা মনে করিয়েছেন, বাঁধের কারণে ভেসেছে ১৯২টি গ্রামে। ঘরছাড়া ৩০ হাজার মানুষ। সেই গ্রামগুলি ঘুরে দেখতে মোদীকে অনুরোধ করেছেন তাঁরা।