অম্বেডকর ভবনে ‘অটলময়’ বৈঠক করে ভোটের ঘুঁটি সাজাতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ।

কাল থেকে শুরু হচ্ছে বিজেপির দু’দিনের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। কিন্তু তার আগে এক দিকে উচ্চবর্ণের রোষ, অন্য দিকে তফসিলি জাতিদের অসন্তোষের জাঁতাকলে পড়ে গিয়েছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত কারণেই উচ্চবর্ণের অটলবিহারী বাজপেয়ীকে সামনে রেখে অম্বেডকর ভবনে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বিজেপি নেতা শাহনওয়াজ হোসেন আজ বলেন, ‘‘এই প্রথম বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক হচ্ছে অটলজির অবর্তমানে। দু’দিনের বৈঠক পুরোটাই ‘অটলময়’। তাঁর পথে চলেই দল আজকের উচ্চতায় পৌঁছেছে।’’

সদ্য গত কালই তফসিলি জাতি ও জনজাতি নিয়ে বিজেপির কৌশলের বিরোধিতায় বন্‌ধ ডেকেছিল উচ্চবর্ণের একাধিক সংগঠন। সেই বন্‌ধে বিজেপির দফতরগুলির সামনে তুমুল বিক্ষোভও দেখায় উচ্চবর্ণেরা। মায়াবতীর মতো নেত্রীও আজ বলেছেন, এই আন্দোলনের পিছনে আসলে বিজেপি-আরএসএসেরই হাত আছে। বিএসপি-র যুক্তি, তফসিলি জাতির বিরোধিতায় বিজেপি উচ্চবর্ণকে মাঠে নামিয়েছে। কিন্তু বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, ভোটের আগে সেটি করে কী লাভ? বরং এত দিন বিজেপিকে শুধুই উচ্চবর্ণের দল বলা হত। এখন তাতে তফসিলি তকমা লাগানো হচ্ছে। সেটি মন্দের ভাল। আর উচ্চবর্ণের ভোট বিজেপির হাতছাড়া হবে না। তার জন্য কৌশল রচনা করতেই বৈঠক হবে। বাজপেয়ীকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরা সে কারণেই। পাশাপাশি, সামাজিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ধরপাকড় নিয়ে দলের অবস্থানও জানানো হবে এই বৈঠকে। 

বিরোধীদের কটাক্ষ, বেঁচে থাকতে অটলকে সম্মান দেননি মোদী। যেমন অটলের সঙ্গী লালকৃষ্ণ আডবাণী এখনও ব্রাত্য। কিন্তু সে সবের তোয়াক্কা না করে আগামী সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে প্রচার পর্বে নেমে পড়ছেন মোদী-শাহরা। ১৫ সেপ্টেম্বর পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্র বেছে নিয়ে ভিডিয়ো কনফারেন্স করবেন মোদী। ১৬ তারিখ বাজপেয়ীর মৃত্যুর এক মাস পূর্তিতে গোটা দেশে কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিন পর্যন্ত পালন করা হবে সেবা-সপ্তাহ। সেটিকেই আরও এগিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ‘সার্জিক্যাল-স্ট্রাইক’ দিবস পালন করে জাতীয়তাবাদের হাওয়া তুলবে বিজেপি। তাদের আশা, এই কৌশলে এগোলেই লাভ হবে দলের।