বাংলার পাশাপাশি অন্য রাজ্যের সাংসদদেরও লোকসভা-রাজ্যসভায় নিজেদের বক্তব্যে কৌশলে পশ্চিমবঙ্গের ‘অস্থির পরিস্থিতি’ নিয়ে সরব হতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সংসদ চলাকালীন প্রতি সপ্তাহে ৪০ জন করে দলীয় সাংসদের সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি নিয়েছেন মোদী। আজকের বৈঠকে অন্যান্য রাজ্যের বিজেপি সাংসদের সঙ্গে ডাক পেয়েছিলেন বাংলার অর্জুন সিংহ, সুভাষ সরকার ও খগেন মুর্মু। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, সেই বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের মতে, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাংলার তিন সাংসদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘রাজ্যর পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানান।’’ রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার ছবি যাতে গোটা দেশে তুলে ধরা সম্ভব হয়, সে জন্য অন্য সাংসদদের সক্রিয় হতে বলেন মোদী। সূত্রের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী অন্য রাজ্যের সাংসদদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘আপনারা নিজ-নিজ রাজ্যের কথা যখন সংসদে তুলবেন, তখন বাংলার তুলনা টেনে তৃণমূল শাসনে পশ্চিমবঙ্গের দুর্দশার ছবিটি গোটা দেশের মানুষকে জানাবেন।’’

একই সঙ্গে আজ বৈঠকে উপস্থিত সকল সাংসদকে নিজেদের সাংসদ তহবিলের টাকা থেকে এলাকার স্কুলগুলির গেটে আয়না লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন মোদী। কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাতে পড়ুয়ারা স্কুলে ঢোকার আগে আয়নায় নিজেকে দেখে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে স্কুলে ঢুকতে পারে।

রাজ্য থেকে জিতে আসা সাংসদদের আরও বেশি করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন মোদী। সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জয়-পরাজয় ভুলে মানুষের পাশে থাকতে হবে। তবেই মানুষের মন জেতা সম্ভব।’’ পুজো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আরও বেশি করে যুক্ত হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকারের বলেন, ‘‘লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যের অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলেই অবহিত। স্বভাবতই প্রধানমন্ত্রীও উদ্বিগ্ন।’’ 

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। বাংলার পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী কম বোঝেন। উত্তরপ্রদেশে আইন-শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। দিন-দুপুরে মানুষ খুন হচ্ছে। সেটা দেখতে পাচ্ছেন না। উল্টে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, সারা দেশে বাংলার বদনাম করতে।’’ কাকলির কথায়, বিজেপি আসলে বাংলা-বিরোধী। তাদের কাজই হল সর্বত্র বাংলার বদানাম করা।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।