‘এক দেশ, এক ভোট’ নীতি চালু করতে এ বার বিশেষ কমিটি গড়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার দিল্লিতে সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে বৈঠক শেষে জানান কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনাথ বলেন, ‘‘এক দেশ, এক ভোট আমাদের সরকারের কর্মসূচি নয়, বরং গোটা দেশের। এতে সব দলই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর প্রত্যেকের মতামতকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। এর জন্য খুব শীঘ্র একটি কমিটি গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সব দিক খতিয়ে দেখে সময়মতো রিপোর্ট জমা দেবে তারা।’’

এনডিএ-র শরিক দলগুলি ছাড়াও এ দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাম নেতারা। ছিলেন কে চন্দ্রশেখর রাও, চন্দ্রবাবু নায়ডু এবং অরবিন্দ কেজরীবালের প্রতিনিধিরাও। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন বলে জানান রাজনাথ। তিনি বলেন, ‘‘৪০টি দলকে বৈঠকে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম আমরা, যার মধ্যে ২১টি দলের সভাপতিরা এসেছিলেন। আরও তিনটি দল লিখিত ভাবে তাদের লিখিত মতামত পাঠিয়েছিল।’’ তাঁর দাবি, ‘‘বেশির ভাগ দলই এক দেশ, এক ভোট নীতিতে সায় দিয়েছে। এই নীতি নিয়ে সিপিএম এবং সিপিআইয়ের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দেয়। তবে তারা এই নীতির বিরোধিতা করেনি। শুধু নীতির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।’’

আরও পড়ুন: এক দেশ, এক নির্বাচন: কী করতে চাইছে মোদী সরকার?​

আরও পড়ুন: মোদীর বৈঠকে নেই রাহুল, মমতার মতোই বয়কটে মায়া-অখিলেশ-স্ট্যালিন​

তবে রাজনাথ এই দাবি করলেও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘‘এক দেশ, এক ভোট নীতি চালুর ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সমস্যা তো রয়েইছে, এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থারও বিরোধী। এই নীতি সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং সংবিধানের পরিপন্থী।’’

তবে শুধু বামেরাই নয়, কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাঝগম (ডিএমকে)-এর মতো দলগুলিও ইতিমধ্যেই ‘এক দেশ, এক ভোট’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এ দিন বৈঠকেও যায়নি তারা। তবে বিজেপির যুক্তি, অর্থ এবং সময়ের অপচয় রুখতে এবং দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সরল করতেই তাদের এই প্রস্তাব।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।