রবিবার কেরল উপকূলের কাছে ১২ জন ইরানি-সহ সন্দেহজনক একটি নৌকা আটক করল উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে সেই নৌকা থেকে উপগ্রহ যোগাযোগের একটি সেট এবং পাকিস্তানি পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘বারুকি’ নামে ওই নৌকাটি আলাপুঝার উপকূলের কাছে আটকানো হয়। পরে সেটিকে নিয়ে আসা হয় ভিঝিনজাম বন্দরে। তিরুঅনন্তপুরমের পুলিশ কমিশনার এইচ ভেঙ্কটেশ সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, গুপ্তচর সংস্থা র-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা একসঙ্গে গোটা বিষয়টির উপরে নজরে রাখছিল। প্রাথমিক সন্দেহের উপর ভিত্তি করেই এই সাফল্য এসেছে বলে দাবি তাঁদের।

সূত্রের খবর, সন্দেহজনক ওই নৌকা থেকে ১২ জন ইরানি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, ইরানের কালাত থেকে গত ২৫ মে রওনা দিয়েছিল বারুকি।

এই ঘটনা নিয়ে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত করবে কি না জানতে চাওয়া হলে রাজ্য পুলিশের ডিজিপি টি পি সেনকুমার বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। এখনই এনআইকে ভার দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে না।’’

উপকূলরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, আলাপুঝা থেকে একশো কিলোমিটার পশ্চিমে একটি সন্দেহজনক ট্রলারের গতিবিধি সম্পর্কে ৩ জুলাই উপকূলরক্ষী বাহিনীকে খবর দেয় কেরল পুলিশ। তাদের বলা হয়েছিল, মাঝসমুদ্রে বহুমূল্যের কিছু পাচারে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ওই নৌকাটির।

এই খবর পাওয়ার পরেই উপকূলরক্ষী বাহিনীর আঞ্চলিক সদর দফতর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে নজরদারির জন্য কোচি থেকে বিশেষ ডর্নিয়ের বিমান নামিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাহিনীর তরফে ‘সমর’ এবং ‘অভিনব’ নামে দু’টি ভেসেলও নামিয়ে দেওয়া হয় কোচি থেকে। উপকূল বাহিনী সূত্রের খবর, শনিবারই প্রথম ডর্নিয়ের বিমানের নজরে আসে সন্দেহভাজন নৌকাটি। যথাসময়েই তারা বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা পাঠায় ভেসেলগুলিকে।

তার পরেই আটকানো হয় নৌকাটি। পরে তদন্তে উপকূলরক্ষী বাহিনী দেখেছে ওই নৌকার অবস্থান, নৌ-কর্মী সংক্রান্ত তথ্য রাজ্য পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। শেষমেশ রবিবার সকালে ভিঝিনজাম বন্দরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় নৌকার কর্মীদের।