বাবাকে দেখা গেল নিজের বাড়ির ছাদে। সেখানেই দাঁড়িয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে পোজ় দিলেন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়।  আর ছেলে এক নেতার ফোনে নিজস্বী তুললেন। অনেক দূর থেকে বোঝা গেল, দাড়ি রেখেছেন ওমর আবদুল্লা। 

গৃহবন্দি ফারুককে অবশ্য দেখা গেল চেনা চেহারাতেই। পরনে গলাবন্ধ কোট, মাথায় ‘ট্রেডমার্ক’ টুপি। পাশে ছিলেন স্ত্রী মলি-ও। অগস্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের আগে সরকার তাঁদের সতর্কতামূলক হেফাজতে নেওয়া ইস্তক আজই প্রথম কয়েক ঝলক দেখা গেল আবদুল্লাদের। দু’মাস পরে এই প্রথম দলের জম্মুর নেতাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন তাঁরা। 

পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও একই সময় ধরে গৃহবন্দি। আগামিকাল পিডিপি-র জম্মুর নেতারা মেহবুবার সঙ্গে দেখা করবেন। রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক তাঁদের সেই অনুমতি দিয়েছেন। দলটির নেতৃত্বে থাকবেন সাধারণ সম্পাদক বেদ মহাজন। 

ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)-এর জম্মুর আঞ্চলিক সভাপতি দেবেন্দ্র সিংহ রানার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল আজ শ্রীনগরের হরি সিংহ নিবাস অতিথিশালায় ওমর এবং গুপকর রোডের বাসভবনে ফারুকের সঙ্গে দেখা করে। পরে দেবেন্দ্র বলেন, ‘‘দু’জনেই সুস্থ এবং প্রাণবন্ত আছেন। তবে রাজ্যে যা চলছে, তাতে তাঁরা ব্যথিত।’’ আসন্ন ব্লক উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচনে এনসি-র অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘ভোটে লড়তে গেলে সভাপতির অনুমোদন লাগে। আমাদের সভাপতি তো আটক হয়ে রয়েছেন।’’ 

ফারুক ন্যাশনাল কনফারেন্সের সর্বভারতীয় সভাপতি এবং ওমর কার্যকরী সভাপতি। দেবেন্দ্র জানান, তাঁরা মুক্তি পেলে দল ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করবে। তখন ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হবে। আপাতত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। দেবেন্দ্র নিজেও দু’মাস গৃহবন্দি ছিলেন। মুক্তি পেয়েই রাজ্যপালের কাছে দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানান। তার ভিত্তিতেই আজকের সাক্ষাৎ। এনসি সাংসদ আকবর লোন এবং হাসনেন মাসুদি বলেন, তাঁদের সঙ্গে ফারুকের আজ রাজনৈতিক কোনও বিষয়ে কথা হয়নি । 

ইতিমধ্যে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর দাবি করেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ নিয়ে কাশ্মীরিরা ‘খুশি’। উপত্যকায় সংবাদমাধ্যমের উপরে কোনও কড়াকড়ি নেই বলেও মন্ত্রীর দাবি। যদিও সাংবাদিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলছে। 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবর, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে মুজফ্‌ফরাবাদ-শ্রীনগর হাইওয়ে ধরে এগোচ্ছে মূলত তরুণদের একটি মিছিল। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণরেখা পেরোনোর চেষ্টা করা হবে। মিছিলের উদ্যোক্তা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জেকেএলএফ। তাদের দাবি, ভারত ও পাকিস্তানকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপরে বলপ্রয়োগ করতে নিষেধ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।