লোকসভার পরে এ বার রাজ্যসভাতেও নির্বিঘ্নে পাশ হয়ে গেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সংশোধনী বিলটি। এ বার রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই দেশের পাশাপাশি বিদেশেও ভারতীয় নাগরিক ও দেশের সম্পত্তির উপরে সন্ত্রাস-হামলার তদন্ত করার অধিকার পাবে এনআইএ।

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে আইএস-এর বাড়বাড়ন্ত, শ্রীলঙ্কায় আইএসের বিস্ফোরণকে মাথায় রেখেই তড়িঘড়ি এনআই-কে বিদেশে তদন্ত চালানোর জন্য আইনি কবচ দিতে চায় মোদী সরকার। একই সঙ্গে নয়া আইন হলে মানব পাচার, জাল নোট, অস্ত্রের চোরাচালান, সাইবার সন্ত্রাসের মতো ঘটনাতেও বিদেশে গিয়ে তদন্ত করতে পারবে এনআইএ।

লোকসভার মতোই এ দিন অবশ্য রাজ্যসভাতেও প্রশ্ন ওঠে, বিল তো না হয় পাশ হল! কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষেত্রে কী হবে? তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, তদন্তের বিষয়টি দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু পাকিস্তান সেই চুক্তিতে এখনও সাক্ষর করেনি। ফলে প্রতিবেশী দেশে তদন্তের ক্ষেত্রে এনআইএ-র ভূমিকা কী হবে, সরকারের কাছে জানতে চান ডেরেক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন জবাব দিতে উঠলেন, তখন কক্ষে অনুপস্থিত ডেরেক। তা নিয়ে কটাক্ষ করে অমিত বলেন, ‘‘লর্ড ডেরেক যথারীতি প্রশ্ন করে চলে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে কক্ষে নেই। কিন্তু তাঁকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, পাকিস্তান নিয়ে ভাবতে হবে না।
আপাতত যারা এ দেশের পাশে রয়েছেন সেখানে তো তদন্ত হতে পারে।’’ অমিতের দাবি, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আজ না হোক কাল পাকিস্তান ওই চুক্তি করতে বাধ্য হবে।

সিবিআই, ইডি-র মতো এনআইএ-রও রাজনীতিকরণ হচ্ছে বলে এ দিন অভিযোগ করেন কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর অভিযোগ, মোদীর আমলে সমঝোতা এক্সপ্রেস বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো সংঘর্ষ— সব বিতর্কিত মামলাতেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্তরা। সব ক’টি ক্ষেত্রেই
 তদন্তের দায়িত্বে ছিল এনআইএ।’’ জবাবে অমিত বলেন, ‘‘দু’টি মামলাতেই চার্জশিট জমা পড়েছিল দ্বিতীয় মনমোহন
 সরকারের সময়ে।’’ অভিষেক পাল্টা জানতে চান, ‘‘অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কেন নতুন করে উচ্চ আদালতে আবেদন করেনি এনআইএ?’’ শাহ উত্তর দেন, ‘‘চার্জশিটে কোনও সারবত্তা ছিল না। তাই করেনি।’’

অভিষেকের কিন্তু দাবি, ৪৮টি সন্ত্রাসবাদী ঘটনার তদন্তে নেমে ২৩টিতেই চার্জশিট দিতে পারেনি এনআইএ। ফলে তাঁর মতে, নতুন করে এনআইএ-কে শক্তিশালী করাটা অর্থহীন। তার জবাবে
অভিষেকের কাছে সর্বশেষ তথ্য নেই বলে দাবি করে অমিত জানান, ‘‘২০১৪ সালের পর থেকে ১৯৫টি অভিযোগ দায়ের করেছে এনআইএ। যার মধ্যে চার্জশিট জমা পড়েছে ১২৯টি মামলায়। দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ২৯ জন।’’