দেশে রয়েছে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা। বিদেশে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস। এই অবস্থায় পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি) প্রতারণা কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত, পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীকে আরও কোণঠাসা করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে নীরব ও তাঁর পরিবারের ৬৩৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল তারা।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের দু’টি অ্যাপার্টমেন্ট, লন্ডন ও দক্ষিণ মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট, হংকং থেকে ২৩ দফায় আনা হিরের গয়না এবং ছ’টি দেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত টাকা। এর মধ্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের এক সংস্থার নামে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও রয়েছে। কয়েকটি সম্পত্তির মালিক নীরবের বোন পূরবী এবং তাঁর স্বামী মৈনাক মেটা। ইডি-র বক্তব্য, পিএনবি কাণ্ডে এফআইআর দায়ের হওয়ার পরেই বেশির ভাগ টাকা সরানো হয়েছিল বিদেশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে।

পিএনবি-র ভুয়ো লেটার অব আন্ডারটেকিং জমা দিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ১৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে নীরব, তাঁর মামা মেহুল চোক্সী ও তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ বছরের গোড়ায় অভিযোগ সামনে আসার আগেই অভিযুক্তেরা দেশ ছাড়েন। তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতিমধ্যেই নীরব ও তাঁর পরিবারের বেশ কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। চার্জশিটে তাদের অভিযোগ, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি করে অন্তত ৬,৪০০ কোটি টাকা বিদেশের বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থায় পাচার করেছেন নীরব। এর পরেই কালো টাকা প্রতিরোধ আইনে ওই ব্যবসায়ীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আদালতের সম্মতি চায় তারা। যোগাযোগ করে বিদেশি তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে।

সোমবার এক বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, গত তিন মাস বিভিন্ন দেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার ফলেই সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা গিয়েছে। ফিরিয়ে আনা গিয়েছে বহু গয়না। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, বিদেশ থেকে এই অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা কার্যত নজিরবিহীন।