মোদী জমানায় তিন বছরে অনুৎপাদক সম্পদ (নন পারফর্মিং অ্যাসেট) পরিমাণ বাড়ল ৬.২ লক্ষ কোটি। সংসদের অর্থ বিষয়ক কমিটির রিপোর্টেই এই তথ্য উঠে এসেছে। আর তার পরই কমিটির তোপের মুখে পড়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিটি।

সংসদের অর্থ বিষয়ক কমিটি ২০১৫-র মার্চ থেকে ২০১৮-র মার্চ পর্যন্ত এনপিএ বা নন পারফর্মিং অ্যাসেট খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। কমিটির মাথায় ছিলেন ইউপিএ জমানার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বীরাপ্পা মইলি। কমিটির অন্যতম সদস্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতিবিদ মনমোহন সিংহ। সোমবারই সেই রিপোর্ট পেশ হয়েছে।

রিপোর্টে উঠে এসেছে, উল্লিখিত তিন আর্থিক বছরে এনপিএ বেড়েছে ৬.২ লক্ষ কোটি টাকা। পাশাপাশি এনপিএ-র এই ক্ষতির মোকাবিলায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে ৫.১ লক্ষ কোটি টাকা দিতে হয়েছে কোষাগার থেকে।

আরও পড়ুন: নোটবন্দিতে জিডিপির ক্ষতি, স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট চেপে দিল বিজেপি

অন্যদিকে ২০১৫ সালেরই ডিসেম্বরে সম্পত্তির গুণগত মান পর্যালোচনা (অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ) হয়। ওই পর্যালোচনাতেই অনুৎপাদক ও বন্ধ্যা সম্পদ এবং অনাদায়ী ঋণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছিল। আভাস পাওয়ার পরও এই সংকট রুখতে আগাম প্রস্তুতি বা মোকাবিলায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা।

আরও পড়ুন: নেহরুকে মুছবেন না, মোদীকে মনমোহন

শীতকালীন অধিবেশনে এই রিপোর্ট পেশ করা হবে সংসদে। সম্প্রতি উঠে এসেছে, ইউপিএ সরকারের তুলনায় বৃদ্ধির হারে পিছিয়ে  মোদী সরকার তার উপর সেই তথ্য আবার তাড়াতাড়ি সরিয়ে নেওয়া নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তার পর ফের এই অনুৎপাদক সম্পদ নতুন করে সরকারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধীরা যে এ নিয়ে ঝড় তুলবে, তার আগাম ইঙ্গিতও মিলেছে।