সপ্তদশ লোকসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পরে দৃশ্যতই ছত্রভঙ্গ লাগছিল বিরোধী দলগুলিকে। প্রত্যেকেই ‘একলা চলো’ নীতি নিয়ে নিজেদের মতো করে বিজেপি-বিরোধিতার পথে হাঁটছিল। কিন্তু ক্রমশ সংসদের ভিতরে (বিশেষ করে রাজ্যসভায়) সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোনোর কথা ভাবছেন কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম, এনসিপি, ডিএমকে-র মতো দলগুলির নেতারা।

চলতি সপ্তাহে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদীয় ১৬৭ নম্বর ধারায় একটি নোটিস দিয়েছেন। সেই নোটিসে স্বাক্ষর করেছেন আরও ১৫টি বিরোধী দলের সাংসদেরা। স্বাক্ষরের আগে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, এসপি-র রাম গোপাল যাদব, বিএসপি-র সতীশ মিশ্রের মতো নেতাদের। প্রত্যেকেই একমত হয়েছেন যে, ইভিএমে কারচুপির অভিযোগটিকে সামনে নিয়ে আসতে হবে একসঙ্গেই। বিরোধী দলগুলির দাবি, এ বারের নির্বাচনে মোট যা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক করেছে বিজেপি। ক্ষমতাসীন দলের সুবিধে বন্ধ করতে সরকারি খরচে ভোটের দাবি করছেন বিরোধীরা।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই নোটিসে সই করতে চায়নি বিজেডি এবং জগন্মোহন রেড্ডির দল। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ঘোষিত ভাবে না হলেও তারা যে বিজেপি-র দিকে ঝুঁকে রয়েছে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে এই আচরণে। মোদী সরকারের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধে আদায় জগনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বিজেডি মোদী সরকারের প্রথম দফাতেও বিভিন্ন বিষয়ে পরোক্ষে বিজেপিকে সমর্থনই করে এসেছে। ফলে তাদের এই আচরণ খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয় কংগ্রেস, তৃণমূলের কাছে।

রাজনৈতিক সূত্রের মতে, সংসদের বাইরে না হলেও অদূর ভবিষ্যতে অধিবেশন চলাকালীন বিষয়ভিত্তিক ভাবে এই সমন্বয় চালিয়ে যাওয়া হবে। তৃণমূল আশা করছে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনার জন্য তিন ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে।