কাল যদি ‘মিস্‌ড কল’ দিয়ে বিজেপির সদস্য হন পি চিদম্বরম? 

এআইসিসি দফতরে বসে কংগ্রেসেরই ওয়ার্কিং কমিটির এক সদস্যের প্রশ্ন: ‘‘ইডি আর সিবিআই তখনও কি এ ভাবে হন্যে হয়ে দৌড়বে তাঁর পিছনে?’’ রাজ্যসভায় শাসক জোট এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়। কিন্তু গত মাসের শেষে তিন তালাক পাশ করানোর সময়েই বেরিয়ে এসেছিল বিরোধী ঐক্যের কঙ্কালসার চেহারাটি। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, বিরোধী শিবিরের এত নেতা উধাও কি ইডি-সিবিআইয়ের চাপে? এ বারে কংগ্রেসই অভিযোগ করছে, বিরোধী কণ্ঠকে পুরোপুরি স্তব্ধ করতেই উঠেপড়ে লেগেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। 

আঙুলের কড় গুনে হিসেব কষছিলেন কংগ্রেসের আনন্দ শর্মা। ত্রিশ পর্যন্ত গিয়ে থেমে গেলেন। বললেন, ‘‘সব মামলা চলছে শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১২টাই হল কংগ্রেসের নেতাদের বিরুদ্ধে। আইন তো সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত। তা সত্ত্বেও যাবতীয় মামলা শুধু বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধেই হচ্ছে কেন? বিজেপির সব নেতা কি ধোয়া তুলসীপাতা? আর বিরোধী দলের  অনেক নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই ইডি-সিবিআইয়ের সব মামলা শেষ হয়ে যাচ্ছে!’’

ন্যাশনাল হেরাল্ডের মামলায় সনিয়া গাঁধী ও রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ইডি-সিবিআই তদন্ত, মায়াবতীর ভাই আনন্দ কুমারের বেনামি সম্পত্তির তদন্ত, বিমান কেলেঙ্কারিতে শরদ পওয়ারের ঘনিষ্ঠ প্রফুল্ল পটেলকে জিজ্ঞাসাবাদ, আইআরসিটিসি দুর্নীতিতে তেজস্বী যাদবকে জেরা, চন্দ্রবাবু নায়ডু, ফারুক আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি— বিরোধী শিবিরের খুব কম দলই আছে, যারা মোদী সরকারের নিশানায় নেই। জম্মু-কাশ্মীরে বিশেষ মর্যাদা লোপের পরে এখনও ছাড়া পাননি মুফতি-আবদুল্লারা। কমল নাথের ভাগ্নেও গ্রেফতার হয়েছেন। অথচ খনি এবং জমি দুর্নীতিতে বা জলবিদ্যুৎ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়ালও। দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বল্লারীর রেড্ডি ভাইয়েরা বা অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মার ক্ষেত্রেও তদন্তকারী সংস্থাদের বিশেষ হেলদোল নেই।  

গত রাতে কংগ্রেস নেতৃত্ব ধন্দে ছিলেন— চিদম্বরমের পক্ষে দল থাকবে কী থাকবে না তা নিয়ে। কিন্তু সনিয়া গাঁধীরা আলোচনা করে স্থির করেন, মোদী সরকার তদন্তকারী সংস্থাকে যে ভাবে বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করছে, তার বিরুদ্ধে সরব হবে দল। আজ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা প্রথম টুইট করে দলের অবস্থানটি স্থির করে দেন। তিনি বলেন, ‘‘চিদম্বরমজির মতো যোগ্য ও রাজ্যসভার এক শ্রদ্ধেয় সদস্য কয়েক দশক ধরে অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আনুগত্য দিয়ে দেশের সেবা করেছেন। বিনা সঙ্কোচে সরকারের ব্যর্থতা ফাঁস করেন, সত্য বলেন। কিন্তু ভীতুদের কাছে সে সত্য অস্বস্তিকর। তাই তারা নির্লজ্জ ভাবে হানা দেয়। আমরা চিদম্বরমজির সঙ্গে আছি। পরিণতি যাই হোক, সত্যের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’’

রাহুল গাঁধী এই অবস্থান নিতে একটু সময় নিলেন। দুপুর নাগাদ তাঁরও টুইট এল: ‘‘মোদী সরকার ইডি, সিবিআই, ও মেরুদণ্ডহীন সংবাদমাধ্যমের একাংশকে ব্যবহার করে চিদম্বরমের চরিত্র হনন করছে। ক্ষমতার এই অপব্যবহারকে আমি কড়া নিন্দা করি।’’ 

কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে অস্বস্তির বিষয়, এখনও পর্যন্ত অন্য বিরোধী দলের বড় নেতারা চিদম্বরমের পাশে দাঁড়াননি। এনসিপির এক নেতা মজিদ মেমন এবং জেডিইউয়ের আলি আনোয়ার সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু কংগ্রেসের প্রশ্ন, বাকিরা কোথায়? সকলেই কি ভয়ে মুখ বুজে রয়েছেন? 

বিজেপির শরিক শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে অবশ্য আজ রাজ ঠাকরের বিরুদ্ধে ইডির হানার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বিজেপির প্রশ্ন, গাঁধী পরিবার কেন তেড়েফুঁড়ে উঠছে? তারা কি ভয় পাচ্ছে? বিজেপির নেতা অনিল জৈন বলেন, ‘‘কংগ্রেস বলছে, বিজেপি রাজনীতি করছে! কিসের রাজনীতি? আমরা কি চিদম্বরমকে দুর্নীতি করতে বলেছিলাম?’’