আরও ১ লক্ষ ২ হাজার ৪৬২ জনের নাম বাদ পড়ল চূড়ান্ত এনআরসি খসড়া থেকে। চূড়ান্ত খসড়ায় এর আগে বাদ পড়েছিল অসমের ৪০ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৭ জনের নাম। ফলে মোট ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৮৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৪১ লক্ষ ১০ হাজার ১৬৯ জনের নাম এখনও পর্যন্ত বাদ গেল। 

এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে এনআরসি দফতর জানিয়েছে, নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি বা নাম নিয়ে আপত্তির সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে আজকের তালিকার যোগ নেই। তাদের বক্তব্য, যাঁদের নাম ডি-ভোটারের তালিকায় আছে, যাঁদের ইতিমধ্যেই বিদেশি বলে ঘোষণা করা হয়েছে বা যাঁদের নামে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মামলা ঝুলছে—তাঁদের নামই আজকের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। এ ছাড়াও  অন্তর্ভূক্তি বা আপত্তি বিষয়ক শুনানিতে সাক্ষী দিতে আসা বেশ কিছু মানুষের পরিচয় যাচাই করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে তাঁরা আদৌ ভারতীয় নন। সেই ‘অযোগ্য সাক্ষীদের’ নামও আজকের তালিকায় যোগ হয়েছে। তা ছাড়া আগের তালিকায় নাম থাকা যাঁদের নাম যাচাই করার সময়ে অযোগ্যতা ধরা পড়েছে, তাঁদের নামও বাদ পড়েছে। 

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে ডি-ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার। পাশাপাশি, প্রায় ২ লক্ষ ৪৫ হাজার মামলা বিভিন্ন ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ঝুলছে। গত বছর পর্যন্ত প্রায় ৯২ হাজার মানুষকে বিদেশি ঘোষণা করেছে রাজ্যের বিভিন্ন আদালত। তাদের মধ্যে প্রায় ২৯,৮০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ডিটেনশন শিবিরে বন্দি হাজার খানেক মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ডি-ভোটার ও মামলা চলছে এমন সন্দেহজনক নাগরিকের নাম এনআরসির অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু বিভিন্ন ত্রুটির ফলে এমন অনেকের নাম আগের তালিকায় ঢুকে গিয়েছিল।

এনআরসি দফতর জানায়, আজ যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের চিঠি পাঠিয়ে কারণ জানানো হবে। তাঁরা উপযুক্ত প্রমাণ-সহ নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য ১১ জুলাইয়ের মধ্যে স্থানীয় ডিসপোজিং অফিসারের কাছে ফের আবেদন জানাতে পারবেন। ৫ জুলাই থেকে এই শুনানি শুরু হবে। ৩১ জুলাই প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত এনআরসি।

অন্য দিকে, আজ রাজ্যসভায় এনআরসি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনআরসি নিয়ে কংগ্রেসের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধী অসম চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবীকরণের বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন। তাহলে এখন কংগ্রেস তার কৃতিত্ব নিতে নারাজ কেন?’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের জন্য এনআরসি ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি নয়। এটা হল জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। পুরো কাজটি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং তদারকিতে করা হচ্ছে।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।