গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গের পরে এ বার কেরলে। তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ওয়েনাডে। ফের চুমু রাহুল গাঁধীর গালে।

চার দিনের কেরল সফরে গিয়েছেন রাহুল। শুনছেন বন্যা কবলিত মানুষের কথা। বুধবার গিয়েছিলেন ওয়েনাডে। সেখানে গাড়ির জানলা দিয়ে হাত নেড়ে মানুষকে শুভেচ্ছা জানানোর সময়ে ভিড়ের মধ্যে এগিয়ে যান নীল জামা পরা এক যুবক। গাড়ির বাইরে থেকেই হাত বাড়িয়ে রাহুলের সঙ্গে হাত মেলান ও কাঁধে হাত রেখে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। আর তার পরে আচমকা চুমুও দেন গালে। নিরাপত্তা রক্ষীরা অবশ্য তাঁকে সরিয়ে দেন। অবিচলিত রাহুলও হাসি মুখে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে থাকেন আগের মতোই।

কে এই যুবক? ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিয়ো এ দিন ভাইরাল হয়েছে, তাতে তাঁর মুখ দেখা যাচ্ছে না। পুলিশও বেশ কিছু ক্ষণ তাঁর পরিচয় জানায়নি। এতে প্রশ্ন ওঠে, দেশের সর্বোচ্চ, এসপিজি নিরাপত্তা পান যিনি, তাঁকে জড়িয়ে ধরে চলে যাচ্ছে অজ্ঞাতপরিচয় কোনও ব্যক্তি— এটা কি বিপজ্জনক নয়? পরে জানা যায়, যুবকের নাম ইব্রাহিম চেমবিলট। তিনি কৃষক। ওয়েনাডেই থাকেন। জমি জলে ডুবেছে। সাংসদের সহায়তায় আপ্লুত হয়েই ওই কাণ্ড করেছেন তিনি। চেমবিলটদের আসতে বলছিলেন রাহুলই। তাঁর অনুরোধে পুলিশ ওই কৃষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।  

এর আগে ২০১৪-র ফেব্রুয়ারিতে ভ্যালেন্টাইন’স ডে-তে এক মহিলা চুমু খেয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতিকে। গুজরাতের বলসাড়ে দলীয় সভামঞ্চে রাহুল বসে। গলায় ভক্তদের মালা। তখনই দলের কিছু মহিলা তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে যান। এক জন, রাহুলের গালে হাত রাখেন। কার্যত হাত ধরে টেনে তাঁকে ঝুঁকিয়ে নিয়ে চুমু দেন গালে। সে বারও হাসিমুখেই তাঁদের অভিনন্দন ও ভালবাসা গ্রহণ করেছিলেন রাহুল।

দু’মাস পরে মুর্শিদাবাদেও প্রায় একই ঘটনা। সেখানে সভামঞ্চের পাশে তখন রাহুলকে ঘিরে ধরেছেন অনুগামীরা। ভিড়ের মধ্যে থেকে এক যুবক প্রায় নাচতে নাচতে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে আলিঙ্গন করেন ও গালে চুমু দেন। সে বারও রাহুল স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছিলেন ভক্তের ভালবাসা। গত ১৩ মার্চ লোকসভায় রাহুলের আচমকা আলিঙ্গনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের লোকজন বলছেন, এখানেই মোদীর সঙ্গে তফাত রাহুলের। ভালবেসে কেউ আলিঙ্গন করলে বা চুমু খেলে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারেন রাহুল।