পি চিদম্বরমকে নিয়ে সিবিআইয়ের ছয় গাড়ির কনভয় যখন রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে ঢুকছে, তখন হাসিমুখে দৃশ্যটা দেখলেন ‘অমিত শাহ’। আসল অমিত শাহ নন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসিমুখের ছবি।

দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির নতুন সদর দফতর থেকে কয়েকশো মিটার দূরেই রাস্তার উল্টো দিকে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। তার এক নম্বর গেট পেরিয়েই চিদম্বরমকে নিয়ে সিবিআইয়ের কনভয় ঢুকল। ঠিক তার সামনেই বিরাট হোর্ডিংয়ে দিল্লির সাংসদ মীনাক্ষি লেখির নতুন লেখা বই প্রকাশের ঘোষণা। বইয়ের উদ্বোধক হিসেবে অমিত শাহর বিরাট ছবি।

দৃশ্যটা যেন প্রতীকী হয়ে রইল। ২০১০-এ পি চিদম্বরম যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন সোহরাবুদ্দিন ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় সিবিআই অমিত শাহকে গ্রেফতার করেছিল। মিল আরও অনেক। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সুনীল গৌর অবসর নেওয়ার তিন দিন আগে চিদম্বরমের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। একই ভাবে ২০১০-এর জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তরুণ চট্টোপাধ্যায় অবসরের ঠিক আগে সোহরাবুদ্দিন মামলায় সিবিআই তদন্তের অনুমতি দিয়েছিলেন। সে সময় গাজিয়াবাদ জেলা আদালতের কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা বেআইনি ভাবে তুলে নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে ওই বিচারপতির নাম জড়িয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় কী ভাবে অবসরের মুখে সিবিআইয়ের পক্ষে রায় দেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি।

আজ দিল্লি হাইকোর্ট থেকে অবসর নিলেন বিচারপতি সুনীল গৌর। নয় বছর পরে কংগ্রেস একই ভাবে প্রশ্ন তুলেছে, এই বিচারপতিই চিদম্বরমের আগাম জামিনের আবেদনের রায় জানুয়ারি মাস থেকে সংরক্ষিত রেখেছিলেন। সাত মাস পরে ঠিক অবসরের মুখে রায় ঘোষণা করলেন কেন? এই বিচারপতিই ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় সনিয়া-রাহুল গাঁধীকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই মামলায় একটি কিংবদন্তি হয়ে যাওয়া জাতীয় রাজনৈতিক দলের সততা আতসকাচের নীচে রয়েছে।’’ অবসরের পরে বিচারপতি গৌরকে কোনও পদ পাইয়ে দেওয়া হবে কি না, সেই জল্পনা তুঙ্গে। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের অবসরের পরে তাঁকে সীমান্ত-বিবাদ সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

২০১০-এ সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারির পর মুক্তি পেতে অমিত শাহের তিন মাস সময় লেগেছিল। চিদম্বরমকেও যত দিন পারা যায়, হেফাজতে বা জেলে রাখতে চেষ্টার কসুর করবে না সিবিআই-ইডি। আজ আইএনএক্স মিডিয়া মামলার অন্যতম তদন্তকারী অফিসার রাকেশ আহুজাকে ইডি থেকে দিল্লি পুলিশে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ওই অফিসারের কাজে গাফিলতি ছিল। তাঁকে হাত করা হয়েছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

অমিত শাহর বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সিবিআইয়ের এক তামিল অফিসার, ডিআইজি পি কন্ডসামি। চিদম্বরমের বিরুদ্ধেও তদন্তকারী অফিসার আর পার্থসারথিও তামিল। সিবিআইয়ের আর্থিক অপরাধ দমন শাখার একটি বিভাগের এই প্রধানের নেতৃত্বেই বুধবার রাতে সিবিআই পাঁচিল টপকে চিদম্বরমের জোড়বাগের বাড়িতে ঢোকে।