দিল্লির পাক হাইকমিশনে ‘পাকিস্তান জাতীয় দিবস’ অনুষ্ঠানে কাশ্মীরের হুরিয়ত নেতাদের যোগ দেওয়া নিয়ে দু’দেশের চাপান উতোর যখন তুঙ্গে, সেই সময়ে ইসলামাবাদ সফরে গেলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনা। কাল ইসলামাবাদে ‘পাকিস্তান জাতীয় দিবস’-এর অনুষ্ঠানে সিরিসেনাকে সম্মানিত অতিথির মর্যাদা দিচ্ছে পাকিস্তান, যা নিঃসন্দেহে দিল্লির রক্তচাপ বাড়াবে।

কূটনীতিকদের হেনস্থার অভিযোগ করে ইসলামাবাদ নয়াদিল্লি থেকে তাদের সব কূটনীতিককে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। নয়াদিল্লিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বৈঠকও তারা বয়কট করে। নয়াদিল্লিতে তাদের হাইকমিশনার সোহেল মাহমুদকে ডেকে নেয় পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক। পাক হাইকমিশন সূত্রে জানানো হয়েছিল, অনির্দিষ্ট কাল দিল্লি ফিরবেন না সোহেল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার পাক হাইকমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, শুক্রবার দিল্লি ফিরে হাইকমিশনে জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন সোহেল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সরকারের কোনও এক প্রতিনিধি কাল পাক হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে যাবেন। তবে এত দিন কোনও মন্ত্রী গেলেও এ বার দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে সেই অনুষ্ঠানে পাঠানো হতে পারে।

তবে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত নেতাদের দিল্লিতে আসতে না-দেওয়ার অবস্থানে অনড় মোদী সরকার। তাতে না-দমে একের পর এক হুরিয়ত নেতা অবশ্য কাশ্মীর থেকেই পাকিস্তানকে ‘জাতীয় দিবস’-এর শুভেচ্ছা জানিয়ে আগেভাগে বিবৃতি দিয়েছেন। কাশ্মীরের ‘স্বাধীনতার লড়াইয়ে’ পাকিস্তান বরাবরের মতো পাশে থাকবে— এই আশাও প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: চিন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ

তবে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে ইসলামাবাদে ডেকে ‘জাতীয় দিবসে’ সম্মানিত অতিথির মর্যাদা দিয়ে পাকিস্তান যে ভারতকে চাপে ফেলেছে, সন্দেহ নেই। দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় চিনের প্রভাব বাড়ায় ভারত ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে। অশোধিত ঋণের বিনিময়ে শ্রীলঙ্কার একটি বন্দরের দখল নিয়েছে চিন। এর পরে সিরিসেনাকে ‘জাতীয় দিবসে’ বিশেষ মর্যাদা দিয়ে কাছে টানার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবারই করাচি পৌঁছেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট। সেখান থেকে তিনি ইসলামাবাদ যাবেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেন ও প্রধানমন্ত্রী শহিদ খকন আব্বাসির সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পাশাপাশি সে দেশের সঙ্গে বেশ কিছু সমঝোতা চুক্তি (মউ)-ও করবেন সিরিসেনা।