• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নারদ নিয়ে লোকসভা উত্তাল, টিপ্পনি, ‘শাট আপ’, ‘তুম চোর হ্যায়’!

parlia-2

নারদ-কাণ্ড নিয়ে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠল লোকসভা। বোঝাই গেল না বাজেট অধিবেশন চলছে!

বাজেট নিয়ে বিতর্ক ছেড়ে সাংসদরা জড়িয়ে পড়লেন তুমুল বাগবিতণ্ডা, বিরোধে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় এ দিন লোকসভার ‘জিরো আওয়ারে’।

প্রসঙ্গটি তোলেন সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তিনি নারদের চালানো ‘স্টিং অপারেশন’-এর উল্লেখ করে বলেন, ‘‘ওই ঘটনা ভারতীয় গণতন্ত্রের সম্মান ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। যে সংসদকে গণতন্ত্রের মন্দির হিসাবে দেখা হয়, সেই সংসদের তৃণমূল সদস্যদের একাংশ এই কলঙ্কজনক ঘটনায় জড়িয়ে থেকে গোটা দেশের মান-মর্যাদাকে মাটিতে মিশিয়ে দিযেছেন। গোটা দেশের মানুষ টেলিভিশনে ওই ঘটনা দেখেছেন। দেখেছেন অন্য দেশের মানুষও। গোটা তৃণমূল দলটাই ‘এনি টাইম মানি’ হয়ে গিয়েছে।  অসম্ভব লজ্জাজনক ঘটনা। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। হোক সিবিআই তদন্ত। যাঁদের ছবি ওই ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করুক সিবিআই।’’

সেলিমের ভাষণের মধ্যেই নারদ-কাণ্ড নিয়ে তুমুল হই চই শুরু হয়ে যায় লোকসভায়। উঠতে থাকে ‘শেম শেম’ ধ্বনি। সভায় উপস্থিত তৃণমূলের দুই সাংসদ সৌগত রায় আর সুলতান আহমেদকে লক্ষ্য করে টিপ্পনি কাটতে দেখা যায় জনাকয়েক সাংসদকে। কোনও কোনও সাংসদ সভার ওই দুই তৃণমূল সদস্যকে দেখিয়ে ‘কাণ্ডারী’ বলতে থাকেন! তাতে অন্য রাজ্যের কয়েক জন সাংসদকেও সুর মেলাতে দেখা যায়। তাঁরা সৌগত-সুলতানের দিকে তাকিয়ে, নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে একে অপরের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপের ঢঙে বলতে থাকেন- ‘‘তুম চোর হ্যায়!’’

ওই শোরগোলের মধ্যেই বিজেপি-র সুরিন্দর সিংহ আলুওয়ালিয়া উঠে দাঁড়িয়ে ‘অবিলম্বে এই ঘরনের লজ্জাজনক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে’র দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘‘এর আগে এমন ধরনের ঘটনায় যাঁরা জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা সকলেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। এ বারও অভিযুক্তদের ইস্তফার দাবি উঠছে। কিন্তু, অভিযুক্তদের তরফে কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না।’’

আলুওয়ালিয়া শেষ করার পরেই ছুটে আসে অধীরের তির!

বহরমপুরের সাংসদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘‘বাংলায় এখন ঘোটালার সিলসিলা চলছে। সারদা থেকে নারদ – তৃণমূলের নাম বার বার জড়িয়ে পড়ছে লুঠতরাজে। আর এই ভাবে সংসদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে।’’

আরও পড়ুন- নারদ-কাণ্ডের প্রতিবাদে বামেদের পাশাপাশি পথে নামল কংগ্রেসও

পাল্টা বলতে উঠে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘‘এপ্রিল-মে মাসে ভোটের ঠিক আগে এটা তৃণমূলের বিরুদ্ধে একটা রাজনৈতিক চক্রান্ত।’’ ওই সময় সৌগতবাবুকে লক্ষ্য করে টিপ্পনি ছুটে এলে মেজাজের রাশ ধরে রাখতে পারেননি অধ্যাপক সাংসদ। তিনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে কিছুটা ব্যক্তিগত আক্রমণের দিকে চলে যান। অধীরকে উদ্দেশ্য করে সৌগত বলেন, ‘‘তুমি চুপ কর! তোমার নামেও তো খুনের মামলা রয়েছে!’’ ওই সময় সৌগতের পক্ষে গলা মেলান তৃণমূলের আরেক সাংসদ ইদ্রিশ আলিও। এই সবের মধ্যেই সিপিএমের মহম্মদ সেলিম সৌগতবাবুকে লক্ষ্য করে ‘শাট আপ!’ বলে ওঠেন। সৌগতও তখন সেলিমকে বলেন ‘‘শাট আপ!’’ কিন্তু উত্তেজিত সৌগতবাবুকে তার পরেও চেঁচিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলতে থাকেন, ‘‘কোনও নোটিশ না দিয়েই বিষয়টি নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হচ্ছে।’’

এর পরেই বিজেপি সাংসদ, কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু স্পিকারকে বলেন, ‘‘এত বড় একটা ঘটনা। ওই ভিডিও সঠিক কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক।’’

নারদ-কাণ্ড নিয়ে লোকসভায় দিনভর হই চইয়ের মধ্যে রাজ্যসভাতেও বিষয়টি তুলতে সাংসদদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ব্যাপক তোড়জোড়, তৎপরতা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হামিদ আনসারিকে নোটিশ দিয়েছেন সিপিএম সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি সদস্য সাংবাদিক চন্দন মিত্র বলেছেন, ‘‘ওই প্রস্তাবটি আনা হলে আমি সেটিকে সমর্থন করব। আর তখন আমারও যা বলার রয়েছে, বলব।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন