চার মাথার রাস্তার মোড়ের এক কোণে গাছের তলায় মূর্তি। ভিট্টল মাল্য। আবক্ষ মূর্তির নীচে লেখা— অনুপ্রেরণা বেঁচে থাকে। ওই মোড় থেকেই শুরু হয়েছে প্রায় আধ কিলোমিটার লম্বা ভিট্টল মাল্য রোড। সেই রাস্তাতেই ভিট্টলের তৈরি কোম্পানির অফিস, আবাসন।

বাবার মূর্তি, বাবার নামে রাস্তা, পুত্র ফেরার। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক প্রতারণা ও ঋণ শোধ না-করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। ব্রিটেনের কোর্টে তাঁকে দেশে ফেরানোর জন্য মামলা চলছে। কর্নাটকের ভোটে তাই বিজয় মাল্য অনুপস্থিত।

বিজয় মাল্য কিছু দিন আগেই লন্ডনে বলেছিলেন, ‘কর্নাটকের নির্বাচনে ভোট দেওয়া আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু যেতে পারছি না।’ কর্নাটক থেকে এক সময়ের রাজ্যসভা সাংসদ বিজয় এ-ও জানিয়েছিলেন, এক সময় তিনি সংসদে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করলেও এখন সে সব থেকে অনেক দূরে। রাজনৈতিক ওঠানামার দিকে খোঁজও রাখেন না। বেঙ্গালুরুর মানুষের অবশ্য বিজয় মাল্যকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েই গিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, বিজয় শুধু তাঁর বাবা নন, রাজ্যের নামও ডুবিয়েছেন। ২০০২ ও ২০১০-এ কর্নাটক থেকে দু’বার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। নির্দল প্রার্থী হলেও দ্বিতীয় বার তাঁকে বিজেপি ও জেডি(এস) একই সঙ্গে সমর্থন করেছিল।

রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন এই ভিট্টল মাল্য রোডেই ছিল খাতায়-কলমে বিজয় মাল্যর সরকারি ঠিকানা। আট বছর আগে বিজয় নিজেই তাঁর বাবার মূর্তি ও তাঁর নামে রাস্তার উদ্বোধন করেছিলেন। সেটা নাকি স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ মেটাতেই। কারণ অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর সংস্থার তৈরি আবাসনের জন্য রাস্তা ছোট করে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষোভ সামাল দিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন চওড়া রাস্তা তৈরি করিয়ে দেন মাল্য।

বেঙ্গালুরু বিশিষ্ট নাগরিকদের মতে, বাবা ও ছেলে চরিত্রগত ভাবে একেবারেই আলাদা ছিলেন। ভিট্টল ছিলেন হিসেবি মানুষ। উল্টো দিকে বিজয় প্রথম থেকেই বেহিসেবি, বিলাসপ্রিয়। প্রচার-পর্বে বেঙ্গালুরুর বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বসেছিলেন রাহুল গাঁধী। সেখানে হাজির বেঙ্গালুরুর বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা গেল, বিজয় মাল্যকে নিয়ে ক্ষোভ যথেষ্ট। তাঁদের যুক্তি, নিজের জন্মদিনের পার্টি থেকে ছেলের জন্মদিনে বিমান কোম্পানিই উপহার দেওয়া, সবেতেই মাল্যর বেহিসেবি আচরণের নমুনা দেখা যেত। ‘কিংফিশার এয়ারলাইন্স’ শুরু করার সময়েও বিজয় তাঁর ঘনিষ্ঠদের পরামর্শ শোনেননি। বিজয়ের বিরুদ্ধে কিংফিশার এয়ারলাইন্সের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা বিদেশে পাচার করার অভিযোগেও তাই পড়শিরা কেউই বিস্মিত নন।