ব্যাঙ্ক থেকে হাজার হাজার কোটি হাতিয়ে উধাও নীরব মোদী। অথচ সুদ কমছে ব্যাঙ্ক আমানত, স্বল্প সঞ্চয়ে। আমজনতার এই ক্ষোভ আরও কিছুটা উস্‌কে দিয়ে জিপিএফ (সরকারি কর্মীদের) এবং পিপিএফে সুদ কমার পরে, এ বার তা ছাঁটাই হল কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ডেও (ইপিএফ)।

চলতি আর্থিক বছরে ইপিএফে সুদের হার ১০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অছি পরিযদ। ফলে এ বার পিএফের ৫ কোটি সদস্যকে ৮.৫৫% সুদ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। বুধবার অছি পরিষদের বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোদী জমানায় এই নিয়ে টানা দু’বছরে সুদ মোট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমল ইপিএফে। এর আগে ২০১৫-’১৬ আর্থিক বছরে পিএফের সদস্যরা ৮.৮০% সুদ পেয়েছিলেন। সে বছর প্রথমে সুদ কমিয়ে ৮.৭% করার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রবল বিরোধিতার মুখে সেখান থেকে সরে আসতে হয়। যদিও পরের বছরই সুদ ১৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে করা হয় ৮.৬৫%।

এ বারও সুদ কমানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ অছি পরিষদে শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে লগ্নির পরেও সুদের হার কমল কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন এআইইউটিইউসির সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর সাহা এবং আইএনটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি রমেন পান্ডে। এঁরা অছি পরিষদেরও সদস্য।

কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমজনতার সঞ্চয়ে কোপ দেওয়াই মোদীজির তুঘলুকি ফরমান।’’ দলের কটাক্ষ, মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করাই নরেন্দ্র মোদীর ‘স্বপ্ন’। রণদীপ সূর্যেওয়ালার অভিযোগ, ‘‘গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ‘লুট’ হয়ে যাওয়ার পরে সৎ করদাতাদের পিছন থেকে ছুরি মারল মোদী সরকার।’’ 

কূটনীতিকরাও বলছেন মনমোহন সিংহ সরকারের সমালোচনায় সরব মোদী। কিন্তু ইউপিএ জমানার শেষ তিন বছরেও পিএফে সুদ অনেকটা বেশি ছিল। সুদ কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করে কেন্দ্রীয় পিএফ কমিশনার ভি পি জয় বলেন, ‘‘পিএফ তহবিল লগ্নি থেকে আয় কমার ফলেই এই সিদ্ধাম্ত। সিংহভাগই লগ্নি করা হয় ঋণপত্রে। সমস্ত ঋণপত্রেই সুদ কমেছে। শেয়ার বাজারে লগ্নি করে ১,২০০ কোটি টাকার মুনাফাও সুদ মেটাতে ব্যয় হবে।’’ ইটিএফ থেকে মুনাফা না হলে সুদ আরও কমত বলে মন্তব্য তাঁর।

পিএফে সুদ ভবিষ্যতে ফের কমতে পারে, আশঙ্কা ইউনিয়ন নেতাদের। শঙ্করবাবু বলেন, ‘‘কর্মীদের একমাত্র সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প পিএফ। তা থেকে আয় কমলে, তাঁরা অবসরের পরে সমস্যায় পড়বেন।’’