মিথ্যা বলার অভিযোগে ফের প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ রাহুল গাঁধীর। গতকাল কংগ্রেস সভাপতির নির্বাচনী কেন্দ্র অমেঠিতে সভা করেন নরেন্দ্র মোদী। করওয়ার অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কালাশনিকভ বা একে সিরিজ রাইফেল তৈরির প্রকল্প ঘোষণা করেন। কিন্তু ওই প্রকল্পের ঘোষণায় নরেন্দ্র মোদী ভুরি ভুরি মিথ্যা বলেছেন বলে অভিযোগ রাহুলের। তিনি বলেন, মিথ্যা বলা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। অমেঠিতেও মিথ্যা বলে এসেছেন।

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর, রবিবার প্রথমবার অমেঠিতে পা রাখেন নরেন্দ্র মোদী। গাঁধী পরিবারের নির্বাচনী কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত অমেঠিতে। তা নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তিনি। রাইফেল প্রকল্পের উদ্বোধন করা নিয়ে বলেন, ‘‘এতদিন একটি পরিবারকেই অমেঠি চিনত। এ বার একে-২০৩ রাইফেলসের জন্য সবাই চিনবে অমেঠিকে।  ২০০৭ সালে অমেঠিতে অস্ত্র কারখানার উদ্বোধন হয়। ২০১০ থেকে উত্পাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।’’

কংগ্রেসের তরফে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল আগেই। সোমবার সকালে তাতে যোগ দেন রাহুল গাঁধী। নিজের টুইটার হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি লেখেন, ‘২০১০ সালে আমি নিজে অমেঠিতে অস্ত্র কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি। তার পর থেকে গত কয়েক বছর ধরে ছোট অস্ত্রের উত্পাদন হয়ে আসছে সেখানে। অথচ গতকাল অমেঠি গিয়ে অভ্যাসবশত ফের মিথ্যা বলে এলেন আপনি। আপনার কি বিন্দুমাত্র লজ্জাবোধ নেই?’

আরও পড়ুন: আমরা লক্ষ্যে আঘাত করেছি, মৃতের সংখ্যা জানাতে পারবে সরকার, বললেন বায়ু সেনা প্রধান​

আরও পড়ুন: মাসুদ আজহার জীবিতই! সরানো হল হাসপাতাল থেকে, জঙ্গি নেতাকে ঘিরে নয়া জল্পনা​

২০১৪ সালে অমেঠি থেকেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। কিন্তু রাহুল গাঁধীর কাছে পরাজিত হন তিনি। সেই থেকে মাঝেমধ্যেই রাহুলের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা যায় স্মৃতি ইরানিকে। এ দিন রাহুলের টুইট চোখে পড়তেই পাল্টা আক্রমণ করেন তিনি।

২০১০ সালে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট তুলে ধরে কোরবায় প্রকল্প সংক্রান্ত গলদ নিয়ে রাহুলকে সাফাই দিতে বলেন। ১৯৯৬ সালে রায়বরেলিতে ‘ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম টেকনিক্যাল স্কুল’ স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন কংগ্রেস নেতা সতীশ শর্মা।  কিন্তু আজও স্কুল তৈরি হয়নি, শুধুমাত্র  একটি দেওয়ালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা লিপিবদ্ধ করা রয়েছে। সেই দেওয়ালের একটি ছবি পোস্ট করে রাহুল গাঁধীর মতামত জানতে চান স্মৃতি ইরানি।  অমেঠির উন্নতিতে রাহুল ভয় পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)