উত্তরপ্রদেশে ভোটের ফল বেরোবে ১১ মার্চ। ওই দিনই সপা, কংগ্রেস আর বিএসপি নেতা-নেত্রীদের গায়ে বিদ্যুতের ঝটকা লাগবে। মির্জাপুরে ভোটের প্রচারে গিয়ে এই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে শেষ দু’টি পর্বের ভোট বাকি। তার আগে আজ উন্নয়ন প্রসঙ্গে জমে উঠেছে মোদী- অখিলেশ তরজা। অখিলেশের উন্নয়নের স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে মোদী টেনে আনেন রাজ্য সরকারকে রাহুলের পুরনো সমালোচনার প্রসঙ্গ। আর অখিলেশের জবাব, ‘‘উত্তরপ্রদেশের জন্য এতই যদি কাজ করে থাকেন মোদী, তা হলে ভোটের প্রচারে তাঁর মন্ত্রীরা এ রাজ্যে পড়ে রয়েছেন কেন?’’

মির্জাপুরে মোদীর জনসভায় পাল্টা আক্রমণ অপেক্ষা করে ছিল অখিলেশের জন্য। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এই পিছিয়ে পড়া এলাকায় প্রচারে গিয়ে মোদী বিদ্যুতের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশের বিদ্যুতের তারে আদৌ বিদ্যুৎ রয়েছে কিনা, তা জানতে আমাকে তার ছুঁয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন অখিলেশ। কিন্তু তাঁর নতুন বন্ধু রাহুলই তো ‘খাট সভা’-র সময় বিজলীর তার ছুঁয়ে দেখেছিলেন। আর পাশে দাঁড়ানো কংগ্রেসর নেতা গুলাম নবী আজাদকে বলেছিলেন, চিন্তার কিছু নেই। ওতে বিদ্যুৎই নেই!’’ উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস-সপা জোটের হওয়ার আগেই রাহুল ‘খাট সভা’ করেছিলেন। অখিলেশের উন্নয়নের শ্লোগান নিয়ে সে দিন রাহুলের তোলা প্রশ্নকেই আজ ভোটের প্রচারে নিয়ে এলেন মোদী। এ সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ভোটের ফল প্রকাশ পেলেই আসল বিদ্যুতের ঝটকা লাগবে বিজেপি বিরোধী দলগুলির। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও এ দিন মোদীর সুরেই দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতবে বিজেপি। ফল হবে একেবারে লোকসভা ভোটের মতো।

উত্তরপ্রদেশে আগামিকাল ভোট। শেষ পর্ব ৮ মার্চে। তার আগে জয় নিয়ে বিজেপির এই দাবির মধ্যেই মোদী ও সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শাণিয়ে গিয়েছেন অখিলেশ।

গাজিপুরের সভায় দিল্লির রামজস কলেজে এবিভিপি-র হামলার কথা টেনে আনেন তিনি। বলেন, ‘‘সঙ্ঘ পরিবার জাতীয়তাবাদের কথা বলে। আমার প্রশ্ন, যে সেনারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই পরিবারগুলির জন্য এঁরা কী করেছে?’’ কানপুরে রেল দুর্ঘটনার পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হাত রয়েছে বলে মোদী যে অভিযোগ এনেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অখিলেশ।